হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সংঘাতের বলি হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ

আমার দেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে বোমাবর্ষণে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল থেকে শুরু করে পুড়ে যাওয়া তেলের ডিপোগুলো থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া অঞ্চলের পরিবেশ ও জলবায়ুর ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। খবর এএফপি।

লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির বেঞ্জামিন নেইমার্ক বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে এবং ইরানে অভিযান চালাতে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমানগুলো বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করছে। স্টেলথ বোমারু বিমান ও যুদ্ধজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন বায়ুমণ্ডলে প্রচুর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণয়নকে ত্বরান্বিত করছে।

নেইমার্ক উল্লেখ করেন, ‘মার্কিন নৌবাহিনীর একটি বিশাল বহর এখানে দীর্ঘ সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে। এই সৈন্যবাহিনীর খাবার, আবাসন ও সার্বক্ষণিক কাজের জন্য প্রচুর শক্তির প্রয়োজন, যা মূলত জ্বালানিশক্তির ওপর নির্ভরশীল।’

অধিকাংশ বড় বিমানবাহী রণতরি পারমাণবিক শক্তিতে চললেও অন্যগুলোতে দূষণকারী ডিজেল জেনারেটর ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা অস্ত্র প্রস্তুতি থেকে শুরু করে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন পর্যন্ত সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে পরিবেশগত প্রভাব নির্ণয় করেন।

‘ওয়ান আর্থ’ জার্নালের একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, গাজা সংঘাত থেকে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছে, যা ৭৬ লাখ পেট্রোলচালিত গাড়ির বার্ষিক নির্গমনের সমান। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে কার্বন নির্গত হয়েছে ৩০ কোটি টনেরও বেশি, যা ফ্রান্সের বার্ষিক নির্গমনের সমান।

নেইমার্ক বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াতকারী তেলবাহী জাহাজ এবং অঞ্চলটির তেল-গ্যাস শোধনাগারগুলো এখন যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। শোধনাগার থেকে বের হওয়া বিষাক্ত ধোঁয়া প্রাণঘাতী এবং জলবায়ুর জন্য বড় হুমকি। উদাহরণ হিসেবে ১৯৯০-এর দশকে কুয়েতের তেলকূপে আগুন নেভাতে কয়েক মাস সময় লেগেছিল, তখন ১৩–৪০ কোটি টন কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছিল।

যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে নীতিনির্ধারকেরা জলবায়ু রক্ষার চেয়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের আন্দ্রেয়াস রুডিঙ্গার বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির দাম বাড়লে মানুষ বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকছে, যেমন ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে হিট পাম্পের জনপ্রিয়তা বেড়েছিল।’

দূষণঝুঁকি আরও বাড়ছে। তেলবাহী জাহাজ ও সামরিক স্থাপনা হামলার ফলে আশপাশের বাতাস ও পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। সম্প্রতি তেহরানের জ্বালানি ডিপোতে হামলার পর বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় পুরো আকাশ ঢেকে গিয়েছিল।

ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনসের মাথিল্ড জর্দে বলেন, পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ফলে বাতাস, পানি ও মাটি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।

কনফ্লিক্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট অবজারভেটরির পরিচালক ডগ উইয়ার জানান, ‘শত শত ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের সংবেদনশীল সামুদ্রিক পরিবেশকে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’

এসআর

কোন কোন দেশ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে না, জানাল ইরান

হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান ট্রাম্পের, কিন্তু মিশন কঠিন ও বিপজ্জনক

সৌদিতে ড্রোন হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সম্পর্ক নেই

মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ত্যাগের নির্দেশ

বৈরুতে হিজবুল্লাহর কমান্ড সেন্টার ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের

ইসরাইলে ২৪ ঘণ্টায় আহত ১০৮ জন

নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করা হবে: আইআরজিসি

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে দেশে ফিরছেন আরো তিন ইরানি নারী ফুটবলার

ইরাকে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ৬ মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার দাবি ইরানের