হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

পুরোনো জাহাজ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ালেন নেতানিয়াহু ও তার নিরাপত্তামন্ত্রী বেন গভির

আল-জাজিরা

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও ইতামার বেন গভির। ছবি: সংগৃহীত

ইসরাইলের রাজনীতিতে পুরোনো এক অধ্যায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ডুবে যাওয়া ইরগুনের অস্ত্রবাহী জাহাজ আলতালেনা ঘিরে মুখোমুখি হয়েছেন দেশটির উগ্রপন্থি দুই নেতা—প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

ইরগুন ছিল ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগে ও ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের সময় সক্রিয় একটি ইহুদি আধাসামরিক সংগঠন। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে সংগঠনটির জড়িত থাকার ইতিহাস রয়েছে। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় ৭ লাখ ৫০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়। ফিলিস্তিনিদের কাছে এ ঘটনা ‘নাকবা’ বা মহাবিপর্যয় হিসেবে পরিচিত।

সোমবার আলতালেনার ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দেন বেন-গভির। তার ঘোষণার পরই বিষয়টি রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। দ্রুত ঘটনাস্থলে যান নেতানিয়াহুও। এরপর একই স্থান থেকে আলাদা ভিডিও বার্তা দেন দুই নেতা।

জাফার কাছে ইরগুনের হিব্রু নাম ‘এতজেল’-এর নামে প্রতিষ্ঠিত এতজেল জাদুঘরে গিয়ে নেতানিয়াহু আলতালেনার ইতিহাস তুলে ধরেন। তার দল লিকুদ নিজেদের ইরগুনের রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে দাবি করে।

কী হয়েছিল আলতালেনার

১৯৪৮ সালের জুনে ফ্রান্স থেকে ইরগুনের জন্য অস্ত্র নিয়ে ইসরাইলে আসে আলতালেনা। কিন্তু অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরগুন ও নবগঠিত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।

ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নের নির্দেশে শেষ পর্যন্ত জাহাজটি ডুবিয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় ইসরাইলিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

নেতানিয়াহু তার বক্তব্যে ওই সময়ের ইরগুন কমান্ডার মেনাখেম বেগিনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসরাইলি বাহিনী গুলি চালালেও বেগিন তার যোদ্ধাদের পাল্টা গুলি না চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

এরপর নেতানিয়াহু বর্তমান সময়ের রাজনীতির সঙ্গে ওই ঘটনার তুলনা করেন। নিজের ও লিকুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ থাকলেও ইসরাইলিরা পরস্পরের ভাই।

নাকবার রক্তাক্ত ইতিহাস

ইরগুনের সঙ্গে ইসরাইলের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস যেমন জড়িয়ে আছে, তেমনি জড়িয়ে আছে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি ও সহিংসতার ইতিহাসও।

১৯৪৮ সালের এপ্রিলে জেরুজালেমের কাছে দেইর ইয়াসিন গ্রামে ইরগুন ও আরেক উগ্রপন্থি আধাসামরিক সংগঠন লেহির যোদ্ধারা হামলা চালান। নারী ও শিশুসহ শতাধিক গ্রামবাসী নিহত হন। এর আগে গ্রামটির সঙ্গে নবগঠিত ইসরাইলি বাহিনীর অনাক্রমণ চুক্তি হয়েছিল বলে ইতিহাসবিদেরা উল্লেখ করেছেন।

এর কয়েক সপ্তাহ পর জাফায় হামলা চালায় ইরগুন। শহরের প্রান্তে গোলাবর্ষণসহ ওই অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি বাসিন্দা জাফা ছেড়ে পালিয়ে যান।

ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগেও ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান চালিয়েছিল ইরগুন। ১৯৪৬ সালে জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলে বোমা হামলায় ৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন।

তবে ইসরাইলি সমাজবিজ্ঞানী ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি মনে করেন, নাকবার সব দায় শুধু ইরগুনের ওপর চাপানো ঠিক নয়। তার মতে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনায় লেবার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জায়নবাদী আধাসামরিক সংগঠনগুলোরও প্রধান ভূমিকা ছিল।

নির্বাচনের আগে নতুন সমীকরণ

আলতালেনার ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়ার ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন অক্টোবরের নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক চাপে রয়েছেন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তার দল লিকুদ প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির পেছনে রয়েছে।

এই নির্বাচনে কট্টর উগ্রপন্থি ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আর সেই ভোটারদের মধ্যে বেন-গভিরেরও শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড্যানিয়েল বার-তালের মতে, আলতালেনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ মূলত নেতানিয়াহু ও বেন-গভিরের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণেই। অধিকাংশ ইসরাইলি ভোটারের কাছে বিষয়টির তেমন গুরুত্ব নেই।

বার-তালের ভাষ্য, আলতালেনা আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়ে বেন-গভির নেতানিয়াহুকে কিছুটা চাপে ফেলেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে রাজি হননি—এ বিষয়টিও সামনে আনেন বেন-গভির।

বেন-গভির নিজেকে মেনাখেম বেগিনের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, অন্যরা যখন তার সঙ্গে একই মঞ্চে ছবি তুলতে চায় না, তখন বেগিনের মতো তিনিও সেই পরিস্থিতির স্বাদ জানেন।

‘বেন-গভির নেতানিয়াহুকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছেন’

চ্যাথাম হাউসের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ইয়োসি মেকেলবার্গের মতে, ‘বেন-গভির নেতানিয়াহুর চেয়েও বেশি নেতানিয়াহু হয়ে উঠছেন।’

তার মতে, অন্য দেশের জনতুষ্টিবাদী নেতাদের মতো নেতানিয়াহু ও বেন-গভির—দুজনই নিজেদের সবচেয়ে বেশি নিপীড়িত ও অন্যায়ের শিকার হিসেবে তুলে ধরতে চান। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের রাজনৈতিক সমর্থকদের কাছে আরো জনপ্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন।

ইসরাইলে রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়ার সময়ে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কার কথা বলা মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও প্রচারণার অংশ বলে মনে করেন মেকেলবার্গ। তবে এমন বক্তব্যকে তিনি বিপজ্জনক বলেও সতর্ক করেছেন।

১৯৯৫ সালে প্রধানমন্ত্রী আইজাক রবিন হত্যার আগে ইসরাইলে উসকানিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে নেতানিয়াহুর ভূমিকা ছিল—এমন দীর্ঘদিনের অভিযোগের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

মেকেলবার্গের মতে, নেতানিয়াহু সংকটের অনুভূতি জিইয়ে রাখতে এ ধরনের বক্তব্য ব্যবহার করেন। এরপর নিজেকেই সেই সংকট থেকে দেশকে উদ্ধারের নেতা হিসেবে তুলে ধরেন।

এএম

৫ মাসে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু ৯৫৫

ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় জিয়াউলকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

নেপালে এত ভারতীয় তীর্থযাত্রী ভ্রমণ করছিলেন কেন

প্রণোদনা প্যাকেজে ৪১ হাজার কোটি টাকা দেবে ১৭ ব্যাংক

‘ইরানের পারমাণবিক শিল্প বিশ্বমানের’

দাখিলের অষ্টম শ্রেণির বৃত্তির ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি

রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি

এআই বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুত নয় বিশ্ব: বিল গেটস

টাংগুয়ার হাওরে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু

নেপালে প্রাণহানি ২৮৯, নিখোঁজ ৮০০ বিদেশিসহ ১৫০০