ফিলিস্তিনের কৃষকদের ওপর হামলা, জলপাইগাছ পুড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের জীবিকা ধ্বংসের ঘটনায় অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গুয়েভারা রোসাস বলেছেন, এসব হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতা বন্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ফিলিস্তিনে বার্ষিক জলপাই সংগ্রহের মৌসুম শুরু হওয়ার পর কৃষকদের ওপর হামলার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন এরিকা গুয়েভারা রোসাস। তিনি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষণা, প্রচার, নীতি ও প্রচারাভিযানবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক।
এরিকা গুয়েভারা রোসাস বলেন, মুখোশধারী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, জলপাইগাছ পুড়িয়ে দিচ্ছে, তাদের জীবিকার উপায় কেড়ে নিচ্ছে এবং পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এমনকি কূটনীতিক ও সাংবাদিকেরাও এসব হামলার শিকার হয়েছেন।
এসব হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখানোর দাবি প্রত্যাখ্যান করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, অবৈধ দখলদারত্ব, বর্ণবাদী ব্যবস্থা এবং ফিলিস্তিনিদের জাতিগত নিধনকে স্থায়ী রূপ দিতে তৈরি একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সহিংসতা উৎসাহিত, সমর্থিত ও সুরক্ষিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইন সমর্থনের দাবি করা দেশগুলোকে কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখার আহ্বান জানান অ্যামনেস্টির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সহিংসতায় কোনোভাবে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ইসরাইলি বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক বিচারপ্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে হবে।
এরিকা গুয়েভারা রোসাস বলেন, ‘বাগাড়ম্বর যথেষ্ট হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের এখনই সুরক্ষা দিতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
এএম