ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিভিন্ন পর্যায়েও যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে। ৮ এপ্রিল প্রথম যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ১৫টি পৃথক তারিখ বা সময়পর্বে মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব হামলা হয়েছে ২৫ মে, ২৭ মে, ৩০ মে, ৩১ মে, ২ জুন, ৫ জুন, ৯ জুন, ১০ জুন, ২৬ জুন, ২৭ জুন, ৭ জুলাই, ৮ জুলাই, ১১ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত এবং সর্বশেষ ৩০ আগস্ট।
মার্কিন হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের রাডার স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও উৎপাদনসংশ্লিষ্ট স্থাপনা। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য হুমকি বা হামলার জবাব হিসেবেই এসব সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে।
এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দুই দেশের মধ্যে ১৭ জুন একটি যুদ্ধবিরতি কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হলেও পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় তা কার্যত ভেঙে পড়ে। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই সমঝোতা বাতিল বলে ঘোষণা করেন।
জুলাই মাসে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ১১ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা কয়েক দফা মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার লক্ষ্য ছিল জর্ডান, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক অবস্থানগুলো। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও ব্যাহত হয়।
সর্বশেষ ৩০ আগস্ট মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনা বা লঞ্চার লক্ষ্য করে হামলা চালায় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ফলে যুদ্ধবিরতি বা উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত পুরোপুরি থামেনি। বরং বিভিন্ন সময়ে পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে।