যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেহরান “অনেক কাছাকাছি” পৌঁছে গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “প্রতিদিন পরিস্থিতি আরও ভালো হচ্ছে।”
তবে সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি তাদের বলার আগে আপনাদের বলতে পারি না, তাই না?”
আলোচনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলো সিবিএস নিউজকে জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রক্রিয়া, বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কিছু সম্পদ অবমুক্ত করা এবং আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখবে। তিনি বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টিও “সন্তোষজনকভাবে সামলানো হবে”।
“আমি শুধু এমন চুক্তিতেই স্বাক্ষর করব, যেখানে আমরা আমাদের চাওয়া সবকিছু পাব,” বলেন ট্রাম্প।
সিবিএস নিউজের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনও বিভিন্ন প্রস্তাব বিবেচনা করছেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এ বিষয়ে তিনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে। ওই আলোচনায় ইরান ইস্যু প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, কোনো চুক্তি না হলে ইরানকে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “চুক্তি না হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে কোনো দেশই আর কখনো এতটা কঠিন আঘাতের শিকার হয়নি, যতটা তারা হতে যাচ্ছে।”
এর আগেও ট্রাম্প ইরানকে একাধিকবার সতর্ক করেছেন। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির আগে তিনি বলেছিলেন, সমঝোতা না হলে “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে”।
অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে নতুন ঘোষণা আসতে পারে।
ভারতের নয়াদিল্লিতে মার্কিন দূতাবাসে এক অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন, “কিছু অগ্রগতি হয়েছে। এমনকি এখনো কিছু কাজ চলছে। আজ, আগামীকাল বা দু-এক দিনের মধ্যেই আমরা কিছু বলতে পারি।”
সূত্র: সিবিএস নিউজ