যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতে সক্ষম হবে কি না—এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ইরানের কোনো তেলক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি এবং দেশটি অন্তত আগামী ৩০ দিন অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তাদের অবরোধ কার্যকর হচ্ছে। তাদের যুক্তি অনুযায়ী, ইরান যদি তেল রপ্তানি করতে না পারে, তাহলে দেশটি বাধ্য হয়ে উৎপাদিত তেল সংরক্ষণ করতে থাকবে—যা একসময় স্টোরেজ সীমা পূর্ণ করে উৎপাদন বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ করা হলে ভূগর্ভস্থ রিজার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তেলের প্রবাহের ধরণ পরিবর্তিত হতে পারে এবং ভবিষ্যতে কিছু ক্ষেত্রে তেল উত্তোলন আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।
স্যাটেলাইট তথ্য অনুযায়ী, ১৩ এপ্রিল অবরোধ শুরুর পর ইরানের তেল মজুদ দ্রুত বেড়েছে। ২০ এপ্রিল পর্যন্ত খারগ দ্বীপের (যেখান দিয়ে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়) স্টোরেজ ট্যাংকগুলো প্রায় ৭৪ শতাংশ পূর্ণ ছিল, যেখানে প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত তেল যোগ হয়েছে—এ তথ্য দিয়েছে সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসি।
তবে তেল কোম্পানিগুলো সাধারণত নিরাপত্তা ও কার্যক্রমগত কারণে ৮০ শতাংশের বেশি স্টোরেজ পূর্ণ রাখতে চায় না।
ইতিহাস বলছে, ইরান আগেও এমন পরিস্থিতি সামলেছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালের এপ্রিলে খারগ দ্বীপের মজুদ ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছিল, যা ছিল এক ধরনের রেকর্ড।
এনার্জি বিশ্লেষক মুইউ জু আল জাজিরাকে বলেছেন, এই অবরোধ ধীরে ধীরে ইরানের উৎপাদন কমাতে বাধ্য করতে পারে, তবে তা হঠাৎ নয়।
তার মতে, “বর্তমানে অনশোর স্টোরেজে প্রায় ২০ দিনের উৎপাদনের সমান জায়গা আছে। তাই আমরা মনে করি উৎপাদন হ্রাস ধীরে ধীরে হবে এবং মে মাসের দিকে তা আরও দ্রুত হতে পারে।”
সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন অবরোধ ইরানের ওপর চাপ বাড়ালেও তেল উৎপাদন তাৎক্ষণিকভাবে থামিয়ে দিতে পারবে না—বরং এটি ধীরে ধীরে একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংকটের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এসআর