হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তথ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) বলেছে, স্বাধীনভাবে সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী গত ৭২ ঘণ্টায় হরমুজ দিয়ে দুই দিক মিলিয়ে প্রতিদিন এক অঙ্কের সংখ্যক জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর তথ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি জাহাজ চলাচলের কথা বলা হয়েছে।
ইউকেএমটিও বলেছে, তাদের কাছে থাকা স্বাধীন ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির উভয় দিক দিয়ে জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ‘এক অঙ্কে’ রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর শিপিং সহযোগিতা ও নির্দেশনা সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় প্রতিদিন গড়ে ৩০টির বেশি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে দুই ধরনের হিসাবের ক্ষেত্রেই একটি বিষয়ে মিল রয়েছে। ইউকেএমটিও বলেছে, যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় হরমুজে জাহাজ চলাচল এখনো অনেক কম।
এদিকে অঞ্চলটির নিরাপত্তাঝুঁকি এখনো ‘গুরুতর’ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও। তাদের ভাষ্য, ইরানের পক্ষ থেকে হামলা, হামলার চেষ্টা ও জাহাজকে হয়রানি অব্যাহত রয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ৭২ ঘণ্টায় অন্তত তিনটি হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর একটি হামলায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়।
ইউকেএমটিও বলেছে, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে ইরান তার উপস্থিতি জানান দেওয়ার এবং ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর চাপ বজায় রাখার অভিপ্রায় দেখাচ্ছে।
এদিকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও দক্ষিণ লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল জুলাই থেকে ‘কম মাত্রায়’ রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও। তবে গত কয়েক দিনে এসব এলাকায় নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
এএম