যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পেতে রাখা সব জলমাইন অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার দাবি, মার্কিন নৌবাহিনী স্যাটেলাইট ও স্পেস ফোর্সের সহায়তায় তল্লাশি চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ মাইনমুক্ত করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ট্রাম্প। একই সঙ্গে ইরানকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেছেন, হরমুজে আবার মাইন পাতা হলে তা ঠেকাতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্যাটেলাইট ও স্পেস ফোর্সের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির প্রতিটি অংশ তল্লাশি চালিয়েছে। মাইন পাতা ঠেকাতে ফের কোনো যুদ্ধজাহাজ বা নৌযান সেখানে পাঠানো হলে সেটি ধ্বংস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ছয় মাস লাগার কথা, শেষ হলো চার মাসেই
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। প্রণালিটির এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে তেহরান। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র।
অবরোধ কার্যকর রাখতে হরমুজ প্রণালিতে এক ডজনের বেশি জলমাইন স্থাপন করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এর পর থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতির মধ্যে গত মার্চের মাঝামাঝি হরমুজ প্রণালি মাইনমুক্ত করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরে এপ্রিলের মাঝামাঝি মাইন অপসারণের জন্য ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামে বিশেষ ধরনের জাহাজ সেখানে মোতায়েন করে মার্কিন বাহিনী।
মাইন অপসারণের কাজ শুরুর পর মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিকে পুরোপুরি মাইনমুক্ত করতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে।
তবে সেই সময়সীমার চার মাসের মধ্যেই মাইন অপসারণের কাজ শেষ করার দাবি করলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ভবিষ্যতে হরমুজে নতুন করে মাইন পাতা হলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
এএম