হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইসরাইলের পানি শোধনাগার অচল, বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি সংকটের শঙ্কা

আমার দেশ অনলাইন

ভূমধ্যসাগরে অস্বাভাবিকভাবে মাইক্রো-শৈবালের বিস্তারে বিপাকে পড়েছে ইসরাইলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা। সমুদ্রের পানির ঘোলাটে ভাব বেড়ে যাওয়ায় দেশটির উপকূলীয় অধিকাংশ বড় সমুদ্রের পানি শোধনাগার বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে হয়েছে অথবা সীমিত সক্ষমতায় চালাতে হচ্ছে। এতে আপাতত সাধারণ মানুষের পানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের বেশ কয়েকটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে শৈবালের বিস্তারের কারণে পানি উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। দেশটির অধিকাংশ উপকূলীয় পানি শোধনাগার এই পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়েছে। ইসরাইলের ছয়টি বড় উপকূলীয় ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের মধ্যে পাঁচটি কোনো এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায় বা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। পরে কয়েকটি প্ল্যান্ট সীমিত পরিসরে আবার চালু করা হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ইসরাইলি পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত গৃহস্থালি পর্যায়ে বড় ধরনের পানি সংকট তৈরি হয়নি। তবে কৃষিতে সেচের পানি সরবরাহ কমানো হয়েছে, বিশেষ করে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের পানিতে অস্বাভাবিক ঘোলাটে ভাবের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাইক্রো-শৈবালের উপস্থিতিই এই সংকটের মূল কারণ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শৈবাল নীল নদের বদ্বীপের কাছাকাছি অঞ্চল থেকে ভূমধ্যসাগরের স্রোতের সঙ্গে ইসরাইলি উপকূলের দিকে এসে থাকতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট উৎস এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

এই শৈবাল পানি শোধনাগারের ফিল্টার ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ সময় এমন পরিস্থিতিতে প্ল্যান্ট চালু রাখলে পানি শোধনের গুরুত্বপূর্ণ মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেগুলো প্রতিস্থাপনে বিপুল অর্থ ব্যয় হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।

ইসরাইলের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ডিস্যালিনেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির পানযোগ্য পানির বড় একটি অংশ সমুদ্রের পানি শোধনের মাধ্যমে আসে। ফলে একসঙ্গে একাধিক প্ল্যান্ট দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বিকল্প উৎসগুলোর ওপর চাপ বাড়বে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্যালিলি সাগর এবং ভূগর্ভস্থ পানির কূপ থেকে অতিরিক্ত পানি তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলে তাৎক্ষণিক জাতীয় পর্যায়ের তীব্র পানি সংকট তৈরি হয়েছে—এমন দাবি করেনি কর্তৃপক্ষ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টগুলো দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক সক্ষমতার নিচে থাকলে পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।

এদিকে এই অস্বাভাবিক শৈবাল বিস্তারের কারণ নিয়েও আলোচনা চলছে। আবহাওয়া, সমুদ্রের স্রোত ও পানিতে জৈব পদার্থের পরিমাণের মতো প্রাকৃতিক কারণ এর পেছনে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গাজা থেকে সমুদ্রে প্রবাহিত অপরিশোধিত বর্জ্যপানির কোনো ভূমিকা আছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

ইসরাইলের জন্য ঘটনাটি শুধু সাময়িক পরিবেশগত সমস্যা নয়, বরং অতিরিক্ত ডিস্যালিনেশন-নির্ভর পানি ব্যবস্থার ঝুঁকিও সামনে নিয়ে এসেছে। অস্বাভাবিক সামুদ্রিক পরিস্থিতি কয়েক দিন বা তার বেশি সময় স্থায়ী হলে গৃহস্থালি সরবরাহের পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতেও এর প্রভাব বাড়তে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর ও হারেৎজে

ধর্মমন্ত্রী ও এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রীকে আস্তে কথা বলার পরামর্শ ডেপুটি স্পিকার

চিকিৎসক ও রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রৌমারীতে সার না পেয়ে বিক্ষোভ, গোডাউন ভেঙে শতাধিক বস্তা লুট

ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি জাহাজ থেকে ১৬ নাবিককে উদ্ধার করল ওমান

সাড়ে ১১ হাজার ডাক্তার নিয়োগ দেবে সরকার

ডেঙ্গুতে আরো ৪ জনের মৃত্যু

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ চালকের অদক্ষতা ও পথচারীদের অসচেতনতা: সেতুমন্ত্রী

বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ভারতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার অনুরোধ ভারতীয় হাইকমিশনারের

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮.২৬ শতাংশ

গভীর রাতে ববির দুই ছাত্রদল নেতাকে কেন মারধর করলেন স্থানীয়রা