ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থনৈতিক যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সব সরকারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র শামিল।
ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে বাঘাইয়ের এ বক্তব্যের কথা জানিয়েছে আল-জাজিরা।
বাঘাই বলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সব স্বাধীন সদস্যরাষ্ট্রের ওপর তার এখতিয়ার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তিনি এটিকে ‘বহির্দেশীয় সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, কোনো সরকারেরই অধিকার নেই অন্য কোনো দেশের সার্বভৌম এখতিয়ারের অধীনে পরিচালিত বিদেশি ব্যাংক, প্রতিষ্ঠান বা বিমানবন্দরকে তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য করা থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করার।
বাঘাইয়ের ভাষ্য, এ ধরনের ‘সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার’ আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই। এসব নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ১ নম্বর দফায় স্বীকৃত রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতার মৌলিক নীতিও লঙ্ঘন করে।
অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগকে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ও অন্যায় কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দেন বাঘাই। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যদি নৌ অবরোধও যুক্ত করা হয়, তাহলে অন্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে একটি অস্থায়ী বিষয়ে পরিণত করা হয়। তা অন্য একটি শক্তির খেয়াল-খুশির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
বাঘাই আরো বলেন, এ ধরনের ভয়ভীতি ও চাপের কাছে নতি স্বীকার করা হলে জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি ক্ষয় হয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্ব ‘প্রকাশ্য ও পূর্ণমাত্রার ঔপনিবেশিকতায়’ ভয়াবহভাবে ফিরে যাবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তেহরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলে দাবি করে আসছে।
এএম