ইরানের ওপর আরো কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ চালুর কথা বলেছেন। তবে ইরানের ওপর ইতোমধ্যে বিপুল নিষেধাজ্ঞা থাকায় নতুন করে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগার ও বড় ব্যাংককে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা, ইরানের স্থলপথে পণ্য প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করা এবং ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ।
চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারে নিষেধাজ্ঞা
ইরানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কেনে চীনের স্বাধীন তেল শোধনাগারগুলো। এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘টিপট’ রিফাইনারি বলা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরানের তেল কেনার কারণে চীনের একটি ‘টিপট’ শোধনাগারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে এসব স্বাধীন শোধনাগারকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে নিবৃত্ত করা তুলনামূলক কঠিন। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা কম।
ফলে ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রাখলে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
বড় চীনা ব্যাংককে নিশানা
ইরানের অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়াজাত করলে বড় দুটি চীনা ব্যাংকও গৌণ নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।
ওই ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে চীনের আর্থিক ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে চীনও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। ফলে এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্থলপথে অবরোধের পরিকল্পনা
ইরানের ওপর স্থল অবরোধ আরোপের ধারণাও তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কিছু কর্মকর্তা বলে জানা গেছে। এমন অবরোধ কার্যকর করা গেলে ইরানে খাদ্য, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানি ব্যাহত হতে পারে।
তবে এ ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন। কারণ ইরানের প্রতিবেশী সব দেশের সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। দেশগুলো হলো ইরাক, তুরস্ক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া।
এই সাত দেশের সহযোগিতা একসঙ্গে পাওয়া বাস্তবে কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যে শুল্ক
ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে এমন দেশগুলোর পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি আগেও দিয়েছেন ট্রাম্প। এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়বে।
তবে এই পরিকল্পনাও সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। কারণ এ ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেস ও আদালতের আইনি বাধার মুখে পড়তে হতে পারে ট্রাম্প প্রশাসনকে।
ফলে ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলেও প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে চীনের ব্যাংক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে লক্ষ্য করে কঠোর ব্যবস্থা নিলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে পড়তে পারে।
এএম