হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরান যুদ্ধ ২০২৭ পর্যন্ত চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন

আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে ইরান যুদ্ধকে স্বল্পমেয়াদি ও দ্রুত শেষ করার কথা বলেছিলেন, সেই যুদ্ধ এখন দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পথে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা সেনাদের অবস্থান ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে । ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত দ্রুত বিজয়ের বদলে ইরান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এখন মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে ১৯টি যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান, বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট এবং প্যারাট্রুপার। এসব বাহিনীর অনেক সদস্য ও সামরিক ইউনিটকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘ সময় ওই অঞ্চলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পরিকল্পনায় এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর ফলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ২০২৭ সাল পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন—এমন ইঙ্গিত মিলছে।

তবে ট্রাম্প এখনো প্রকাশ্যে যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদি করার কথা বলছেন না। বরং তিনি ইরানের ওপর সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রেখে দেশটির সরকারকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সম্প্রতি সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করতেও আপত্তি জানিয়েছেন। তবে একই সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে সেনা মোতায়েন রাখায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপরও চাপ বাড়ছে। যুদ্ধজাহাজের দীর্ঘ মেয়াদের দায়িত্ব, সেনাদের ক্লান্তি, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইরান যুদ্ধের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে।

গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক হামলার পাশাপাশি কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটির সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ইরানকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত দীর্ঘ হলে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ওপর নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক চাপ কতদিন চালিয়ে যাওয়া হবে এবং কীভাবে এই সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসা যাবে। দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত যদি ২০২৭ সাল পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—তিন দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আরব নিউজ, এনডিটিভি, দ্য ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, রয়টার্স ও এপি নিউজ

ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে ইসরাইলি প্রচেষ্টার নিন্দা ৮ মুসলিম দেশের

রাজপথে লংমার্চের নামে বিরোধী দল গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে: রিজভী

কসমেটিকস খাতে সেরার স্বীকৃতি পেল রিমার্ক

বিদেশ ভ্রমণে বছরে সর্বোচ্চ ব্যয় করা যাবে ১৮ হাজার ডলার

গাজা যুদ্ধে ইসরাইলকে সহায়তা করছে মাইক্রোসফট, ১২৫ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি

ব্রিটেনে নাইজেল ফারাজকে কর্মহীন শ্রমিকদের সমর্থন

দিল্লিতে ভবন ধস, বহু মানুষ আটকা পড়ার আশঙ্কা

হাজার হাজার লিটার তেল পুড়িয়ে বিরোধী দলের লংমার্চ অযৌক্তিক

ইউপি নির্বাচনের তফসিল এ মাসেই, ভোট হবে ধাপে ধাপে

আরো কর্মসংস্থান বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে, শক্তিশালী অবস্থানে শ্রমবাজার