হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম, সরবরাহ সংকট তীব্র

আমার দেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। ইরান নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়ার হুমকি দেওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এতে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরো তীব্র হয়েছে।

মঙ্গলবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। রয়টার্সের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্টের দাম একপর্যায়ে ৯৮ দশমিক ২৫ ডলারে উঠেছিল, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও ৯৩ দশমিক ৭০ ডলারে উঠেছে, যা প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

এর আগের সেশনে ব্রেন্টের দাম ৯৭ দশমিক ৩১ ডলারে স্থির হয়, যা ২৪ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। ডব্লিউটিআই ৯২ দশমিক ৬৫ ডলারে ওঠে। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে নতুন করে ঝুঁকি-প্রিমিয়াম যুক্ত হয়েছে।

তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগের প্রধান কারণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। কিন্তু সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই পথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে গেছে। রয়টার্সের হিসাবে, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

সোমবার মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল আটটি। জাহাজ চলাচলের এই পতন বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় প্রকৃত সংখ্যা কিছুটা বেশি হতে পারে।

পরিস্থিতিকে আরো জটিল করেছে ইরানের সাম্প্রতিক হুমকি। তেহরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের স্থাপনায় হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের স্থাপনায় হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইরান একই সঙ্গে হরমুজের বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ বা নিয়ন্ত্রিত সামুদ্রিক অঞ্চল ঘোষণার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহান্তেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব ঘটনার পর হরমুজ ও এর আশপাশে জাহাজ চলাচল আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ঘটনাও তেলের বাজারে চাপ বাড়াচ্ছে। ইরান-সমর্থিত হুতিদের সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে। একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।

তবে সরবরাহ সংকট তৈরি হলেও তেলের দাম এখনো ১০০ ডলারের ওপরে স্থায়ীভাবে ওঠেনি। হরমুজ দিয়ে সীমিত পরিমাণে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। সৌদি আরব, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প রপ্তানি পথ ব্যবহারের চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও গায়ানার মতো দেশগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে। চীনে তেলের চাহিদা কিছুটা কমে যাওয়াও বাজারের ওপর চাপ কমিয়েছে।

তবে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, হরমুজে জাহাজ চলাচল আরও কমে গেলে অথবা উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় কোনো তেল স্থাপনায় হামলা হলে তেলের দাম আরও দ্রুত বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে গোল্ডম্যান স্যাকসসহ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘস্থায়ী সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় তাদের তেলের পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহন ব্যয়, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পের কাঁচামাল ও খাদ্যপণ্যের পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে এর ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশের জন্যও আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ধরে তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি বা তার ওপরে থাকলে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং পরিবহন ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাংলাদেশের বাজারে এর সরাসরি প্রভাব নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক দামের স্থায়িত্ব, সরকারি মূল্য নির্ধারণ নীতি এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর।

সব মিলিয়ে তেলের বাজারে বর্তমান ঊর্ধ্বগতি শুধু চাহিদা-জোগানের স্বাভাবিক পরিবর্তনের ফল নয়; এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা না কমা পর্যন্ত বাজারে এই ঝুঁকি-প্রিমিয়াম বজায় থাকতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে তেলের দাম ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয় তার ওপর।

সূত্র: রয়টার্স ও আল-জাজিরা

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চার বাংলাদেশি নিহত

বিরোধী দলের আশ্রয়ে পাটোয়ারী-সিফাতরা জিয়া পরিবারকে গালিগালাজ করছে

শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পত্তি হস্তান্তর বিলে যেসব সমস্যা

ধামরাইয়ে বেদে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে এগিয়ে এল জেলা প্রশাসন

কৃষিমন্ত্রীর মায়ের মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের শোক

ম্যাচ হেরে জরিমানাও গুনলেন জ্যোতিরা

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে: রিজভী

বগুড়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যে কারণে

ভেনেজুয়েলার তেল চুক্তি কি গণতন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাঙচুর, নিহত ১