ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইরানের জাতীয় স্বার্থ ও শর্ত রক্ষা হলেই যুদ্ধ শেষ হবে। জনগণের সচেতন উপস্থিতি জাতীয় ঐক্যের বহিঃপ্রকাশই বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার এক বড় শক্তি।'
মাসউদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের দেওয়া শর্ত এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেই যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল শাসনের চাপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধ বন্ধের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সভাপতিত্বে সোমবার ইরানের মন্ত্রিসভার একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা এবং জরুরি সেবা বজায় রাখতে বিভিন্ন দপ্তরের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে যুদ্ধকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে ইরানের সার্বিক অবস্থা, জনসাধারণের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়। দেশটির মন্ত্রিসভার সদস্যরা সেবাপ্রদান অব্যাহত রাখা, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা এবং জনমনে প্রশান্তি বজায় রাখার বিষয়ে নিজ নিজ দপ্তরের প্রতিবেদন পেশ করেন।
সংকটময় মুহূর্তে জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার জন্য পেজেশকিয়ান সকল খাতের প্রশংসা করে বলেন, 'আগ্রাসন মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সেবাপ্রদান অব্যাহত রাখা জাতীয় সক্ষমতার প্রধান স্তম্ভ।' শত্রুর ওপর চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত এই ধারা বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আক্রমণকারীদের শক্তিশালী জবাব দেওয়ার জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর বীরত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বাহিনীর এই প্রতিরোধকে জাতির গর্বিত ইতিহাসের এক 'সোনালী অধ্যায়' হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, গত এক মাস ধরে ইসলামি ব্যবস্থা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সমর্থনে ইরানি জনগণের নজিরবিহীন ঐক্য ও বিশাল সমাবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, 'জনগণের এই সচেতন উপস্থিতি জাতীয় ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ এবং বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার এক বড় শক্তি।' 'যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত কেবল ইরানের সম্মান, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা হলেই নেওয়া হবে।'