আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের প্রতিরোধ আন্দোলন হুতি আনসারুল্লাহ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি দাবি করে, সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি ইরানি বেসামরিক বিমান অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, সৌদি আরব যেন ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা কোনো ধরনের আগ্রাসন না চালায়; অন্যথায় তাদের বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে স্থল ও সমুদ্রপথে হামলা চালানো হবে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে হুতি নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় সৌদি যুদ্ধবিমানের অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিমান দুই শতাধিক আটকে পড়া, আহত ও অসুস্থ নাগরিক বহনকারী একটি ইরানি বেসামরিক বিমানকে সানায় অবতরণে বাধা দিতে চেয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হুতিরা প্রস্তুত এবং সানা ও তেহরানের মধ্যে বিমান চলাচল অব্যাহত থাকবে। হুতি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়, পরে ওই ইরানি বিমান নিরাপদে সানায় অবতরণ করে এবং একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে ফিরে যায়।
গোষ্ঠীটি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, তাদের যোদ্ধারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং সৌদি-মার্কিন অবরোধ ভাঙার লক্ষ্যে তারা নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে।
এর আগে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার ও হুতিদের মধ্যে বৃহৎ বন্দি বিনিময় হলেও নতুন করে এই উত্তেজনাপূর্ণ হুমকি সামনে এলো।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে হুতি গোষ্ঠী। দীর্ঘ সংঘাতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং লাখো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমানে ইয়েমেনের বড় অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকা। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর বড় ধরনের সংঘর্ষ কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থির রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
এসআর