হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইরান যুদ্ধে জড়িয়ে নিজেদের সমস্যার কথা স্বীকার করলেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত।

ইরানে মার্কিন ইসরাইললি হামলার ২০তম দিনে পড়েছে। এদিকে উপসাগরে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে নিজেরা জ্বালানির দাম বৃদ্ধি-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় বুধবার জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘গ্যাসের দাম বাড়ছে, আমরা তা জানি। আমরা জানি এর কারণে মানুষ কষ্টে আছে।’

জেডি ভ্যান্স যোগ করেন, ‘আমরা কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি, যা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘোষণা করা হবে।’ তবে এই বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগে তিনি কোনো ঘোষণা দিতে চান না।

হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নেই জানিয়ে বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তা হলে কী ঘটবে? কারণ আমরা তো এটি ব্যবহার করি না। এটি আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে!’

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে হামলা শুরু করে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করা হতো।

ইরান বারবার বলেছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, খোলা। তবে হামলা বন্ধ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের কোনো জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। পার হতে চেষ্টা করলে হামলা চালানো হবে। এ পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১৬টি জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। তবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম হু হু করে বাড়ছে। বুধবার প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ আগের তুলনায় ৪০ ডলারের বেশি।

জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই যুদ্ধের শুরু থেকে ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। কয়েক দফা আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় কোনো দেশ ট্রাম্পের আহ্বানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। এগুলো সব ন্যাটোভুক্ত দেশ।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জ্বালানির অধিকাংশ আসে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। শুধু দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।

প্রণালিটি নিরাপদ রাখতে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে চীনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। স্বাভাবিকভাবে চীন তাতে সাড়া দেয়নি। মিত্র ও অন্যান্যদের সাড়া না পেয়ে বেশ হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছেন ট্রাম্প।

সূত্র: এএফপি ও আলজাজিরা

যুদ্ধে হারবে না ইরান, ভারতের উচিত বন্ধুর পাশে থাকা: সাবেক ‘র’ প্রধান

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে না জার্মানি: চ্যান্সেলর

ইরানের ‘কিছুটা’ সামরিক সক্ষমতা এখনও রয়েছে: মার্কিন জেনারেল

ইরানি তেলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ভয়েস অব আমেরিকা পুনরায় চালু করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতের নির্দেশ

ইরানে ৭ হাজার ৮০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের কথা ভাবছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিরসনে আইএমও’র বিশেষ অধিবেশনে বাংলাদেশ

ফিলিস্তিনে ঈদের তারিখ ঘোষণা