আবুধাবিতে দুই দিনের বৈঠকের পর ইউক্রেন ও রাশিয়া আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় দফায় সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসার বিষয়ে শনিবার সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
তবে ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, রাশিয়ার একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার কারণে আলোচনায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। খবর এএফপির।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “সব পক্ষকে এক টেবিলে বসানোই একটি বড় পদক্ষেপ ছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নির্ধারণে এখন পর্যন্ত অনেক অগ্রগতি হয়েছে।”
এর আগে গত গ্রীষ্মে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই দেশের আলোচকরা মুখোমুখি হয়েছিল। তবে সেই বৈঠক শুধু বন্দিবিনিময় চুক্তিতেই সীমাবদ্ধ ছিল। প্রায় চার বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার আলোচনায় এবারই প্রথম দুই দেশ সরাসরি অংশ নিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠক প্রসঙ্গে বলেছেন, “অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, আলোচনাটি অত্যন্ত গঠনমূলক ও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
তবে বৈঠকের দ্বিতীয় দিনেই রাশিয়ার ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তীব্র শীতের মধ্যে রাশিয়ার হামলায় লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়লে কিয়েভ কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘রুশ সন্ত্রাসের রাত’ হিসেবে অভিহিত করেছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, মস্কো মূলত হামলার মাধ্যমে শান্তি আলোচনাকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
এএফপির সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, মধ্যরাতে কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত মানুষদের আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে দেখা গেছে। যুদ্ধ প্রায় চার বছর ধরে চললেও সাধারণ কিয়েভবাসীর মধ্যে এখনো দ্রুত কোনো সমাধান নিয়ে আশাবাদ জন্মায়নি।
এসআর