হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ফের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে সৌদি আরব ও হুথি বিদ্রোহীরা

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

আমার দেশ অনলাইন

ইয়েমেনের সানায় পাহারারত হুথি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলায় ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে রিয়াদ। হামলায় সৌদি আরবের কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও আগুন ধরে সাময়িকভাবে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে তাদের সংঘাত চলছে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হলেও দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ২০২২ সালে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। হুথিরা দাবি করেছে, সৌদি আরব গত তিন দিনে ইয়েমেনে ১২১টি বিমান হামলা চালিয়েছে। সৌদি সরকার এ দাবি সরাসরি মন্তব্য না করলেও ইয়েমেন সরকার হুথিদের সামরিক শক্তিবৃদ্ধির ওপর কয়েকটি বিমান হামলার দায় স্বীকার করেছে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, কূটনীতির দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এবং সৌদি আরব শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। তবে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তারা দ্বিধা করবে না।

মঙ্গলবার হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিকমাধ্যমে জানান যে, সৌদি আরবে তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলো ছিল পাল্টা পদক্ষেপ। তিনি অভিযোগ করেন, গত তিন দিনে সৌদি আরব ইয়েমেনে ১২১টি বিমান হামলা চালিয়েছে; এর মধ্যে একটি হামলায় একটি কারাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বন্দিরা চাপা পড়েন।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেছেন, দেশটি ‘আবারও বড় আকারের যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’ তিনি বলেন, উত্তেজনা প্রশমন অসম্ভব নয়, তবে বাস্তবতার নিরিখে তা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। হুথিরা এমন কিছু এলাকা দখলের চেষ্টা চালায় যা তাদের লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলের পথগুলোর ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে পারত।

সৌদি কর্মকর্তারা হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করে আসছিলেন, কিন্তু গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা বিষয়ক গবেষক ফারিয়া আল-মুসলিমির মতে, ‘এখন আর তা এড়িয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘আজকের ঘটনাপ্রবাহ এই যুদ্ধে সৌদি আরবের সম্পৃক্ততাকে আরো ত্বরান্বিত করবে।’

হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ ও তেল রপ্তানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা আরো বাড়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও বাড়তে পারে। সর্বশেষ হামলার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে উঠেছে।

তবে সৌদি আরব নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে গেলে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং হুথিদের দুর্বল করে ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানকে নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা করতে পারে রিয়াদ।

২০১৫ সালের সৌদি সামরিক অভিযান ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী সংকট তৈরি করেছিল এবং বিপুল প্রাণহানি ঘটলেও হুথিদের ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। ফলে এবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে জড়ানোর ঝুঁকি সৌদি আরবের জন্য যথেষ্ট বেশি।

আরএ

ইরানকে দমানোর জন্য ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ কি যথেষ্ট

পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান শুরু ১২ সেপ্টেম্বর

চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় দুই সেনা নিহত

দুদক স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুসন্ধান করলে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব

ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে রোমাঞ্চকর লড়াই

ইরান যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

স্বামী-স্ত্রীর কর্মস্থল কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা এখন নির্বাচনি প্রচারের হাতিয়ার