হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ধসে পড়ছে কৃষি রপ্তানি, তারপরেও গাজায় ফল বেচবে না ইসরাইলি কৃষক

আমার দেশ অনলাইন

গাজায় আম, ৪ আগস্ট ২০২৩। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

গাজায় ইসরাইলের চলমান গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিরোধিতার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশটির কৃষি রপ্তানি খাতে। একসময়ের লাভজনক ইসরাইলি কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি গণমাধ্যম। এছাড়াও বেশ কিছু কৃষক জানিয়েছেন, হামাসের বিপক্ষে তারা ফল বিক্রি না করে অর্থ ক্ষতি মেনে নিবেন।

মিডল ইস্ট মনিটর এক প্রতিবেদনে তথ্য জানিয়েছে।

ইসরাইলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম কান ১১-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে ইসরাইলি লেবু ও আমের অর্ডার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। রপ্তানি কমে যাওয়ায় কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই খাত পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে।

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে গিভাত হাইম ইচুদের বাগান ব্যবস্থাপক নিতজান ওয়েইসবার্গ বলেন, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তারা লোকসানে ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, বিদেশি চাহিদা এভাবে কমতে থাকলে লেবুজাতীয় ফলের উৎপাদন খাত ধ্বংস হয়ে যাবে।

কৃষকেরা সরবরাহ সংকট ও লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি অবরোধের কথা বললেও বেশিরভাগই স্বীকার করছেন, গাজায় ইসরাইলের গণহত্যাই প্রধান কারণ। আম চাষী ও সাবেক জেনারেল মতি আলমোজ বলেন, ইউরোপে বিকল্প থাকলে ক্রেতারা ইসরাইলি পণ্য এড়িয়ে চলছে।

কে আলমোজের মতো বেশ কিছু ইসরাইলি কৃষক যুদ্ধের প্রতি এতটাই আদর্শিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তারা গাজার ফিলিস্তিনি বাজারে বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এমনকি যদি এর ফলে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় লাভও আসে তারপরেও নয়।

এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘যদি এমন কোনো সম্ভাবনা থাকে যে এটি হামাসের স্বার্থে পরিণত হবে এবং আমাকে অর্থ হারাতে হবে তাহলে সেই অর্থ ক্ষতি মেনে তা হারাতে পারি।’ একই সাথে তিনি লাখ লাখ শেকেল ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

একসময় স্ক্যান্ডিনেভিয়াসহ ইউরোপে ব্যাপকভাবে রপ্তানি হওয়া ইসরাইলি সাইট্রাস এখন স্থানীয় বাজার কিংবা কম লাভজনক জুস শিল্পেই আটকে রয়েছে। ইসরাইলি সাইট্রাস গ্রোয়ার্স অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ড্যানিয়েল ক্লুস্কি জানান, যুদ্ধের পর একটি কন্টেইনারও রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি।

এর ফলে উত্তর ইসরাইলে উৎপাদিত ১,২০০ টন আমের মধ্যে প্রায় ৭০০ টন গাছেই পচে গেছে। অনেক কৃষক এখন বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে সরাসরি বিক্রির ওপর নির্ভর করছেন।

কান ১১ জানায়, বর্তমানে রাশিয়া প্রায় একমাত্র অবশিষ্ট রপ্তানি বাজার। এক কৃষক একে ‘বয়কটের জোট’ বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে ইসরাইল এখন আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত রাষ্ট্রগুলোর কাতারে ঠাঁই পেয়েছে।

মন্ডোয়াইস জানিয়েছে, বিশ্ববাজার থেকে ‘জাফা কমলা’ প্রায় উধাও হয়ে যাওয়া ইসরাইলের ক্ষয়িষ্ণু ভাবমূর্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি কৃষকদের দ্বারা উৎপাদিত এই ব্র্যান্ডটি দখলের মাধ্যমেই ইসরাইল বিশ্ববাজারে পরিচিতি পায়।

কৃষি খাতের এই পতন ইসরাইলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকটেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। +৯৭২ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় আগ্রাসন ও বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগসহ প্রধান খাতগুলোতে তীব্র মন্দা নেমে এসেছে। ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে ইসরাইলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ২৬ শতাংশ কমেছে, যা কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় ধস।

২০ বিলিয়ন ডলারের বন্ড বিক্রি, চীনকেও ছাড়াল সৌদি আরব

গাজার শরণার্থী সংস্থা বন্ধে যেভাবে কাজ করেছে ইসরাইল

দীর্ঘ অবরোধের পর খুলছে গাজার রাফা সীমান্ত ক্রসিং

হাজার হাজার আইএসআইএস বন্দিকে ইরাকে পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ডে’ ১০০ কোটি ডলার অনুদানের প্রস্তাব পুতিনের

ইসরাইলি অবরোধে গাজায় পানি উৎপাদন ব্যাহত

গাজায় ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ডে’ যোগ দিচ্ছে যেসব দেশ

বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রকাশ করল ইরান

নিরস্ত্র না হলে হামাসকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে —হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

সিরিয়া-লেবানন সীমান্তে ইসরাইলের হামলা, নিহত ২