দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত একটি ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।
গতকাল রোববার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এক যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের বিবৃতি অনুযায়ী, মায়দাল জৌন শহরে ২০০ মিটার দীর্ঘ একটি টানেল বা সুড়ঙ্গ লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল।
সীমান্তবর্তী উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র-মধ্যস্থতাকারী একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় লেবানন ও ইসরাইল সম্মত হওয়ার দুই দিন পর এই হামলা চালানো হলো। এই চুক্তিতে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে ইসরাইলি বাহিনী আপাতত একটি বর্ধিত নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করার অনুমতি পাবে।
ইসরাইলের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ওই সুড়ঙ্গের ভেতরে শত শত অস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ছিল। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ এলাকায় রকেট চালিত গ্রেনেডধারী হিজবুল্লাহ যোদ্ধা এবং একটি রকেট লঞ্চারে আঘাত হেনেছে।
সোমবার ভোরে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলাগুলো যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন, যা তারা এ পর্যন্ত মেনে চলেছিল।
গোষ্ঠীটি আরো জানায়, তারা এই ধরনের সমস্ত লঙ্ঘন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্বদেশ ও জনগণকে রক্ষা করার অধিকার তাদের রয়েছে। হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাসেম এই নিরাপত্তা চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এটিকে ইসরাইলের কাছে আত্মসমর্পণ বলে বর্ণনা করেছেন।
তিনি বলেন, তার গোষ্ঠী সশস্ত্র প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।
গতকাল রোববার শেষ রাতে নেতানিয়াহু তার বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করবে। তারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করা, উত্তরের জনপদগুলো থেকে হুমকি অপসারণ এবং ইসরাইলের নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষা করা অব্যাহত রাখবে।’
ইরান যুদ্ধের সমান্তরালে চলা এই সংঘাতের কারণে ১০ লাখেরও বেশি লেবাননের নাগরিক তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। হিজবুল্লাহ ও ইরান জানিয়েছে, দুই সপ্তাহ আগে বৃহত্তর যুদ্ধ শেষ করার জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন লেবাননে শত্রুতা অবসানের নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স
এএম