পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-এর উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন বলে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন। চোখের বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিটিআই দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।
দলটি ইমরান খানের দ্রুত ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল-এ স্থানান্তরের আবেদন করেছে। পিটিআইর আইনজীবী লতিফ খোসা সুপ্রিম কোর্ট রুলস ২০২৫-এর ৩৫(৬) বিধি অনুযায়ী তোশাখানা ফৌজদারি মামলায় এ পিটিশন করেন। আদালতের নির্দেশে ব্যারিস্টার সালমান সাফদারের তৈরি করা একটি স্বাস্থ্য প্রতিবেদন দাখিলের পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
আবেদনে অনুরোধ করা হয়েছে, ইমরান খানকে রেটিনা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে চোখের চিকিৎসার জন্য শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হোক। এছাড়া তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. ফয়সাল সুলতান ও ড. অসীম ইউসুফ এবং পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
পিটিশনে বলা হয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানের স্বাস্থ্যের অবনতি পরিবার এবং জনগণের জন্য উদ্বেগের বিষয়। চোখের সমস্যার কারণে তিনি বারবার স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীন পরিবারের সদস্যদের যুক্তিসঙ্গত সুযোগ এবং আইনজীবীদের কাছে সব মেডিকেল রিপোর্টের সত্যায়িত কপি হস্তান্তরের অনুরোধও পিটিশনে করা হয়েছে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ ইসলামাবাদ হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তোশাখানা মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আদিয়ালা জেলে আটক রয়েছেন। তিনি ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুর্নীতি মামলায় সাজা ভোগ করছেন এবং ৯ মে’র বিক্ষোভ সংক্রান্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাগুলোতেও বিচারাধীন।
মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমরান খানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ৬/৩৬ থেকে উন্নতি হয়ে ৬/৯ হয়েছে এবং বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি চশমা সহ ৬/৬। আদিয়ালা জেলের চিকিৎসা বোর্ডে ড. নাদিম কুরেশি ও ড. আরিফের সমন্বয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এসআর