পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ভবিষ্যতে দেশের বিরুদ্ধে যেকোনো ‘দুঃসাহসিক পদক্ষেপের’ কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার প্রতিক্রিয়া হবে বিস্তৃত, বিপজ্জনক এবং বেদনাদায়ক।
রোববার জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আসিম মুনির দাবি করেন, গত বছরের সংঘাত শুধু দুই দেশের সামরিক লড়াই ছিল না; বরং এটি ছিল দুটি মতাদর্শের মধ্যে একটি নির্ধারক সংঘর্ষ। পাকিস্তান সরকার এ সংঘাতকে ‘মারকা-ই-হক’ বা ‘সত্যের যুদ্ধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বলেও তিনি জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিল। তবে জাতীয় ঐক্য ও সামরিক সক্ষমতার মাধ্যমে পাকিস্তান তার জবাব দিয়েছে বলে দাবি করেন সেনাপ্রধান।
ভারতের বিরুদ্ধে অতীতেও মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে চাপ সৃষ্টি ও সংঘাত উসকে দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। ২০০১, ২০০৮, ২০১৬ ও ২০১৯ সালের ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে আসিম মুনির বলেন, প্রতিবারই পাকিস্তান ভারতের কৌশল ব্যর্থ করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘অপারেশন বুনইয়ানুম মারসুস’ ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করার কৌশলকে উন্মোচিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ভারত সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ‘মারকা-ই-হক’-এ নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। পাশাপাশি ভারতীয় হামলায় নিহত নারী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদেরও স্মরণ করেন তিনি।