হোম > বিশ্ব > পাকিস্তান

ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইয়ে দিতে তদবির করেছিলেন শাহবাজ শরিফ

জুনায়েদ এস আহমদের বিশ্লেষণ

মিডল ইস্ট মনিটর

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী নাভি পিল্লাই ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একই পুরস্কার পাইয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় পিল্লাইয়ের ভূমিকার বিপরীতে ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার পক্ষে শরিফের প্রচেষ্টা পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

‘পিল্লাইয়ের দৃঢ় অবস্থান, শরিফের লজ্জা: পুরস্কার, প্রশংসা ও নতজানু রাজনীতি’ শীর্ষক নিবন্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী সংগ্রাম, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আশ্রয় নেওয়া এবং জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনে নাভি পিল্লাইয়ের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাইয়ে দিতে শাহবাজ শরিফের প্রচেষ্টাকে সমালোচনার চোখে দেখা হয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক আইন ব্যবহার করে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে। বিপরীতে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন দিচ্ছেন, যার প্রশাসন গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

পিল্লাইয়ের ভূমিকা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন

নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করেছেন। গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী ইতিহাস এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় দেশটির উদ্যোগ আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। পশ্চিমা দেশগুলোর মিত্রদের ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রয়োগের দাবি জানানো দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

অন্যদিকে, শাহবাজ শরিফের কূটনৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকাঠামোর প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা। শক্তিশালী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সেই রাষ্ট্রের নেতাকে রাজনৈতিকভাবে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা এক বিষয় নয়। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন হলেও তা যেন নীতিগত অবস্থান বিসর্জনের কারণ না হয়।

ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন

শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন দেওয়ার অর্থ দক্ষিণ এশিয়ায় সম্ভাব্য পারমাণবিক সংঘাত এড়াতে তার ভূমিকার রয়েছে। একটি সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক ভূমিকা রাখার দাবি অন্য অঞ্চলে সামরিক অভিযানের দায় থেকে কোনো নেতাকে মুক্তি দিতে পারে কি না। শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো নেতার ভূমিকা মূল্যায়নের সময় শুধু একটি সংঘাতের দিকে না তাকিয়ে তার সামগ্রিক নীতি ও কর্মকাণ্ড বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ইরানের মিনাবে ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন বিমান হামলায় বহু স্কুলশিশু নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। এ ঘটনা যুদ্ধের ভয়াবহতার উদাহরণ। তাইতো ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কারের জন্য সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ ছাড়া গাজায় ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সমর্থন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়গুলো নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।

পাকিস্তানের কূটনীতি নিয়ে প্রশ্ন

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব দীর্ঘদিনের। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার অর্থ সব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সমর্থন করা নয়। পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের প্রভাব এবং বেসামরিক সরকারের কূটনৈতিক ভূমিকাও আলোচিত। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর একটি অংশ বিদেশি শক্তির সমর্থনকে রাষ্ট্রীয় কূটনীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে। এতে দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ পাকিস্তানের অংশগ্রহণের বিষয়টিও সমালোচিত। আন্তর্জাতিক কোনো উদ্যোগে অংশ নেওয়া তখনই কার্যকর হয়, যখন সংশ্লিষ্ট দেশ নিজের অবস্থান স্বাধীনভাবে তুলে ধরতে পারে এবং প্রয়োজন হলে ভিন্নমত প্রকাশ করে। কূটনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও সংঘাত নিরসন, কোনো শক্তিশালী নেতার ব্যক্তিগত অনুগ্রহ অর্জন নয়।

নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘিরে বিতর্ক

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা এবং ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার রাজনীতির মধ্যে তুলনা করেছেন। পিল্লাইয়ের কাজ আন্তর্জাতিক অপরাধের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব তুলে ধরে। অন্যদিকে, ট্রাম্পকে পুরস্কারের জন্য সমর্থন দেওয়ার ক্ষেত্রে শাহবাজ শরিফের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

‘খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকার স্থগিত একধরনের অভ্যুত্থান’

পুলিশ হেফাজতে সোহেল আফ্রিদিসহ পিটিআইয়ের ৮ নেতা

প্রাদেশিক সরকার ভেঙে দেওয়ার পর খোঁজ নেই পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদির

ইসলামাবাদে রেড অ্যালার্ট, ১৪৪ ধারা জারি

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ১২ সন্ত্রাসী নিহত

ইমরান খানের পিটিআই শাসিত প্রদেশে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন

পিটিআইয়ের লংমার্চ ঘিরে উত্তেজনা, রাওয়ালপিন্ডিতে ১৪৪ ধারা জারি

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা পাকিস্তানের, সৌদির পাশে থাকার অঙ্গীকার

ইমরান খান ইস্যুতে রোববার সোয়াবিতে সমাবেশ ডেকেছেন পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি

পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ১ লাখ ১০ হাজার ৫১৩ জন