পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদ কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে পাকিস্তান সরকার। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার ইসলামাবাদ পুলিশের পাসিং আউট অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বলেন, ইসলামাবাদ কারাগার তৈরি হয়ে গেলে ইমরান খানকে সেখানে স্থানান্তর করা হবে।
তিনি বলেন, ইসলামাবাদ কারাগার দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে। এই কারাগারের ভেতরে সব চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে। যেহেতু ইমরান খানকে ইসলামাবাদের একটি আদালত সাজা দিয়েছে, তাই তাকে ইসলামাবাদ জেলে স্থানান্তর করা হবে। পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আদিয়ালা জেলে আটক রয়েছেন।
ফেডারেল সরকার বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টকে আশ্বস্ত করেছে যে, ইমরান খানকে নতুন করে বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সে সঙ্গে হেফাজতে থাকা অবস্থায় ইমরান খানের দৃষ্টিশক্তির অবনতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে তার ছেলে কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের অনুমতি দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের সঙ্গে দেখা করেন সালমান সফদার অ্যাডভোকেট। এর একদিন পর তিনি কারাগারে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জীবনযাত্রার অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে সাত পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে তিনি ইমরানকে উদ্ধৃত করে বলেন, চিকিৎসা সত্ত্বেও তার ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি রয়েছে।
পিটিআই দাবি করেছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে তাকে নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছিল।
এদিকে ইমরান খানের সুচিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়ার দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন তেহরিকে তাহফুজ আয়িনি পাকিস্তানের নেতারা। শুক্রবার এই অবস্থান ধর্মঘট শুরু হয়। চোখের চিকিৎসার জন্য শিফা আন্তর্জাতিক হাসপাতালে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস, মাহমুদ খান আচাকজাই এবং ব্যারিস্টার গহর আলী খান জুমার নামাজের পর পার্লামেন্ট ভবনে অবস্থান নেন। অন্যদিকে খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও অন্যান্য পিটিআই নেতা খাইবার পাখতুনখোয়া হাউসে আলাদাভাবে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় স্থানেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।