রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে রুশ সামরিক বাহিনীর টিইউ-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিন বিকল হওয়াকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, টিইউ-২২ বোমারু বিমানটি হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। ন্যাটো এই বিমানকে ‘ব্যাকফায়ার’ নামে চিহ্নিত করে। সোভিয়েত আমলের এই অতিধ্বনি গতির অর্থাৎ, শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম এই বোমারু বিমান সিরিয়া ও ইউক্রেনে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করেছে রাশিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রুশ এই বোমারু বিমান আঙ্গারা নদীরতীরের কাছাকাছি একটি ঘন বনাঞ্চলে দ্রুত নিচের দিকে নেমে বিধ্বস্ত হয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠতে দেখা যায়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে ইন্টারফ্যাক্স বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, ‘বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই ক্রুরা ইজেক্ট করেন। পাইলটদের জীবন বা স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো হুমকি নেই।’
মন্ত্রণালয় আরো জানায়, এছাড়া বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ঘটনাস্থলে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং বিমানটিতে কোনো যুদ্ধাস্ত্রও বহন করা হচ্ছিল না।
ইরকুতস্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ এক বিবৃতিতে বলেন, বিমানটি কামেনকা গ্রামের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যোগ দেন।
তিনি জানান, চারজন ক্রুকেই হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তারা কোনো প্রাণঘাতী আঘাত পাননি।
কোবজেভ বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, টিইউ-২২এম৩ মূলত আগের টিইউ-২২ বিমানের আধুনিকায়িত সংস্করণ। ‘বুলেটিন অব দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্টস’-এর তথ্য অনুযায়ী, এটি কেএইচ-২২ (এএস-৪ কিচেন) আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাইপারসনিক ‘কিনঝাল’ বা ‘ড্যাগার’ ক্ষেপণাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।