বৈশ্বিক লিঙ্গ-নিরপেক্ষীকরণ নীতির- এসব প্রবণতা পরিবার ও শিশুদের লক্ষ্য করে একটি বৈশ্বিক প্রচারণায় পরিণত হয়েছে। নারী ও পুরুষের সমন্বয়ে গঠিত ঐতিহ্যগত পরিবারব্যবস্থার সুরক্ষার পক্ষে অবস্থান নিতে হবে। শিশু ও পারিবারিক মূল্যবোধ সুরক্ষার উদ্যোগ নেয়ার ওপর জোরারোপ করতে হবে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তথাকথিত বৈশ্বিক ‘জেন্ডার-নিউট্রালাইজেশন’ নীতির সমালোচনা করে পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষার ওপর জোর দেন তিনি।
গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, গাজায় ইসরাইলের কর্মকাণ্ড মানবতার বিবেককে গভীরভাবে আঘাত করছে। তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে তুরস্কের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর যে অন্যায় করা হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপেক্ষা করা উচিত নয়। গাজার যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে তিনি জাতিসংঘের আরো কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যের সময় ইসরাইলি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন।
এরদোয়ান বলেন, ফিলিস্তিনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলা কঠিন। তিনি গাজা পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা কমিয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আলোচনার পথে ফেরার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সূত্র: মিডল ইস্ট অনলাইন, রয়টার্স ও আল জাজিরা