তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) নেতা ওজগুর ওজেলের দলীয় প্রধান পদের নির্বাচন বাতিল করেছেন আঙ্কারার একটি আপিল আদালত। ২০২৩ সালের যে দলীয় কংগ্রেসের মাধ্যমে ওজেল সিএইচপি-এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন, আদালত বৃহস্পতিবার সেটিকে অবৈধ ঘোষণা করেন। এর ফলে রাজনৈতিকভাবে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে চলে গেলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
২০২৩ সালের কংগ্রেসে ওজগুর ওজেল সিএইচপি-এর সাবেক নেতা ৭৭ বছর বয়সী কামাল কিলিকদারোলোর স্থলাভিষিক্ত হন, যাকে এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির জন্য তেমন বড় কোনো হুমকি মনে করা হতো না। তবে ওজেলের নেতৃত্বে সিএইচপি জনপ্রিয়তায় ক্ষমতাসীন একে পার্টির প্রায় সমকক্ষ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মার্চে ইস্তাম্বুলের সাবেক মেয়র এবং সিএইচপি-এর প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী একরেম ইমামোলোর গ্রেফতার ও কারাদণ্ডের পর ওজগুর ওজেল দেশজুড়ে চলমান বিশাল গণবিক্ষোভের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন।
গত বছর নিম্ন আদালত ২০২৩ সালের সিএইচপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে রায় দিয়েছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আপিল আদালত সেই রায় উল্টে দিয়ে নির্বাচনকে বাতিল ঘোষণা করেন। নির্বাচনে জালিয়াতি, চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ওজেল নিজের জয় নিশ্চিত করেছিলেন-এমন অনিয়মের অভিযোগ এনে আদালত এই রায় দেন।
একই সঙ্গে আদালত ওজগুর ওজেল এবং দলের নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে তাদের স্থলে কিলিকদারোলোকে অন্তর্বর্তী দায়িত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর কিলিকদারোলো দলের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের দল অত্যন্ত বড় একটি দল এবং এটি নিজেদের সমস্যা অভ্যন্তরীণভাবেই সমাধান করবে।’
বিরোধীদলীয় নেতা ওজেলের ঘোষণা
আদালতের এই রায়ের পর ওজগুর ওজেল তার সমর্থকদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমরা নতি স্বীকার করব না, আমি আপনাদের গোলাপ বিছানো পথে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, আমি আপনাদের কষ্ট সহ্য করার, কিন্তু কখনও আত্মসমর্পণ না করার সামর্থ্যের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমি আপনাদের সম্মান, মর্যাদা, সাহস এবং সংগ্রামের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি!’
সিএইচপি সদস্য এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক আইনি মামলার ধারাবাহিকতায় আসা এই সর্বশেষ রায়টি তুরস্কের বিরোধী শিবিরকে চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে ফেলে দিয়েছে এবং দেশটির শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে।
রায়ের পর সিএইচপি আঙ্কারায় তাদের প্রধান কার্যালয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের একটি জরুরি বৈঠক ডাকে, যেখানে শত শত কর্মী দলীয় পতাকা হাতে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
এদিকে, এই সিদ্ধান্তের পরপরই তুরস্কের প্রধান শেয়ার বাজার সূচক ‘ইস্তাম্বুলের বিআইএসটি ১০০’ ৬ শতাংশের বেশি পড়ে যায়, যার ফলে বাজার জুড়ে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়।
তুরস্কে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৮ সালের আগে হওয়ার কথা নেই, যেখানে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান তার দুই দশকেরও বেশি সময়ের শাসনকালকে আরো দীর্ঘায়িত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে
এএম