হোম > বিশ্ব > তুরস্ক

ইস্তাম্বুলে কনস্যুলেট বন্ধের কথা ভাবছে ইসরাইল

আমার দেশ অনলাইন

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রেক্ষাপটে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত নিজেদের কনস্যুলেট বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইসরাইল। দেশটির প্রাচীন কূটনৈতিক মিশনগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত এই কনস্যুলেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বর্তমানে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন এক ইসরাইলি কূটনৈতিক সূত্র।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও আঙ্কারায় ইসরাইলি দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে চালু থাকবে। তবে সেখানে কোনও ইসরাইলি কূটনীতিক দায়িত্ব পালন করবেন না। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরই তুরস্কে অবস্থানরত ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ইস্তাম্বুলের বাণিজ্যিক অঞ্চলে থাকা কনস্যুলেট থেকেও সে সময় সব কূটনৈতিক কর্মী প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকে আঙ্কারার দূতাবাস ও ইস্তাম্বুলের কনস্যুলেট দুই মিশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থানীয় তুর্কি কর্মীদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

ইসরাইলি সূত্র জানিয়েছে, ভূমিকম্প ঝুঁকি বিবেচনায় কনস্যুলেট ভবনটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন খালি পড়ে থাকা ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তা মনে করছেন, ব্যবহারহীন ভবন ধরে রাখতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা অযৌক্তিক।

গত ৭ এপ্রিল কনস্যুলেটের কাছে সংঘটিত একটি গুলির ঘটনার পর থেকেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। হামলার দায় এখন পর্যন্ত কেউ স্বীকার না করলেও কর্তৃপক্ষ ধর্মভিত্তিক একটি সংগঠনকে দায়ী করেছে।

অন্যদিকে, হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তুরস্ক ও ইসরাইলের সম্পর্ক আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বারবার গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছেন। তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে তাকে ‘গণহত্যার নায়ক’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন।

বর্তমানে তুরস্কে ইহুদি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজারে নেমে এসেছে, যেখানে ১৯৫০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৫ হাজার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৪৯ সালে প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল তুরস্ক।

দীর্ঘ ছয় বছর সম্পর্কের টানাপোড়েনের পর ২০১৬ সালে দুই দেশ আবার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। ২০১০ সালে গাজামুখী ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা’ বহরে ইসরাইলি অভিযানের পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই অভিযানে তুরস্কের ‘মাভি মারমারা’ জাহাজে হামলায় আট তুর্কিসহ নয়জন মানবাধিকারকর্মী নিহত হন।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজায় ত্রাণ পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে যাত্রা করা আরেকটি নৌবহরও ইসরাইলি নৌবাহিনীর বাধার মুখে পড়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজার অবরোধ ভাঙার এটিই ছিল তৃতীয় উদ্যোগ। দক্ষিণ তুরস্ক থেকে যাত্রা করা ওই বহরটি গত সপ্তাহে গাজার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল।

সূত্র: এএফপি

এআরবি

বেশি সন্তান চান এরদোয়ান, সায় নেই অভিভাবকদের

তুরস্কে এরদোয়ান-জেলেনস্কি বৈঠক, জোরালো শান্তি উদ্যোগের আহ্বান

যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে ২০টি টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনছে তুরস্ক

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার অঙ্গীকার এরদোয়ানের