হোম > বিশ্ব > যুক্তরাজ্য

‘গাজার শিশুরাও আমাদের সন্তান’— লন্ডনে কনসার্টে মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর

মিডল ইস্ট আই

সংগীত ও অধিকারকর্মীদের কয়েকজন পরিচিত মুখকে এক মঞ্চে এনে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ শীর্ষক তিন কনসার্টের আয়োজন শেষ করেছেন মার্কিন র‍্যাপার ম্যাকলমোর। লন্ডনে শেষ কনসার্টটি দর্শকে পরিপূর্ণ ছিল। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা এবং দেশটির মানুষের প্রতি সমর্থন ও সংহতি প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে।

লন্ডনের ওভিও অ্যারেনা ওয়েম্বলিতে অনুষ্ঠিত হয় সফরের শেষ কনসার্ট। এতে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথ ও নেমাহসিসের পাশাপাশি অংশ নেন জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ এবং ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী আরব বারঘুতি। আরব বারঘুতি আটক ফিলিস্তিনি নেতা মারওয়ান বারঘুতির ছেলে।

ডাবলিন, প্যারিস ও লন্ডনের তিনটি কনসার্টের টিকিট বিক্রি শুরুর পরপরই শেষ হয়ে যায়। ম্যাকলমোর নিজেও এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত সেপ্টেম্বরে নিউ জার্সিতে একটি কনসার্টে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেওয়ার পর এড শিরানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ পড়েন ম্যাকলমোর। এরপরই তিনি তিন শহরে এই কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেন।

ম্যাকলমোর দর্শকদের বলেন, গাজা যুদ্ধ নিয়ে নীরব থাকা তার কাছে কথা বলার চেয়ে বেশি অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল। আমি স্ক্রল করছিলাম, একের পর এক স্ক্রল করছিলাম। আর আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ, অকল্পনীয় বিপর্যয় দেখছিলাম। একটা পর্যায়ে এসে আমার কাছে মনে হয়েছে, কিছু বলার চেয়ে নীরব থাকাটাই বেশি অস্বস্তিকর।

তবে কিছু বলাকে সাহসিকতা বা বীরত্বের কাজ বলে মনে করেন না বলেও জানান এই র‍্যাপার। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, কিছু বলা সাহসিকতার কাজ। আমি মনে করি না, কিছু বলা বীরত্বের বিষয়।’

মানুষের মধ্যে বিভাজন ও সীমান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বৈশ্বিক সম্প্রদায় হিসেবে এসব বিভাজন দূর করতে তারা কী করছে, সেটিই এখন ভাবার বিষয়।

‘আশাকে বন্দি করা যায় না’

লন্ডনের কনসার্টের অন্যতম উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল আরব বারঘুতির বক্তব্য। তিনি মঞ্চে উঠে তার বাবার কারাবন্দি থাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। আরব বলেন, ‘ইসরাইল ২৪ বছর আগে আমার বাবাকে বন্দি করেছিল, যাতে তার জনগণ এবং বিশ্ব তাঁকে ভুলে যায়। কিন্তু নিপীড়কেরা একটি বিষয় বোঝে না—আশাকে বন্দি করা যায় না।’

ফিলিস্তিনের প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মারওয়ান বারঘুতি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

লন্ডনের অনুষ্ঠনের উদ্বোধন করেন জলবায়ুকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। তিনি বলেন, শুধু দাতব্য কনসার্ট আয়োজন কিংবা অর্থ সহায়তা যথেষ্ট নয়। গ্রেটা বলেন, ‘দাতব্য কর্মকাণ্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে দখলদারত্বের অবসান হবে না।’ সংহতির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।

সংগীতশিল্পী পালোমা ফেইথ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে কথা বলার ঝুঁকি এবং এ বিষয়ে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তির কথা তুলে ধরেন। তিনি দর্শকদের বলেন, এ বিষয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশ করা এবং আলোচনার কেন্দ্রে থাকা অস্বস্তিকর। তবে তা না করার পরিণতি আরো ভয়াবহ।

ফেইথ প্রশ্ন তোলেন, গাজা, ফিলিস্তিন, সুদান, ইয়েমেন ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের শিশুদের চেয়ে তাঁর নিজের সন্তানদের কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হবে? তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুরই অধিকার রয়েছে তার মা তাকে কোলে নিয়ে বলবেন, সবকিছু নিরাপদ থাকবে। কিন্তু এই মুহূর্তে পৃথিবী শিশুদের জন্য খুব একটা নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে না।’

ফিলিস্তিনি-কানাডীয় সংগীতশিল্পী নেমাহসিসও অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন। তার প্রকৃত নাম নেমাহ হাসান। এনএমইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার অস্তিত্বই প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ।’

লন্ডনের অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া স্টিফেন কাপোস এবং ১৯৪৮ সালের নাকবার সময় বাস্তুচ্যুত হওয়া ফিলিস্তিনি আন্তোয়ান রাফুল। এ ছাড়া অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম অনুষ্ঠানে একটি বার্তা পাঠান।

তিন শহর, এক লক্ষ্য

গত ২৬ অক্টোবর ডাবলিনের থ্রি অ্যারেনায় কনসার্টের মধ্য দিয়ে এই সফর শুরু হয়। সেখানে ম্যাকলমোরের সঙ্গে অংশ নেন আইরিশ সংগীতশিল্পী হোজিয়ার, বেলফাস্টের র‍্যাপ দল কিনিক্যাপ এবং লোকসংগীতের দল বিওগা। ম্যাকলমোরের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিওগা এর আগে এড শিরানের সফর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছিল।

ডাবলিনের কনসার্টে আরও অংশ নেন ফিলিস্তিনি সংগীতশিল্পী লিনা মাকুল, লিয়াম কানিংহাম এবং ডেড প্রেজ। অনুষ্ঠানে হোজিয়ার আয়ারল্যান্ডে পড়াশোনার জন্য ভিসার অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা গাজার ৫৫ শিক্ষার্থীর বিষয়টি তুলে ধরেন। তাদের পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডাবলিনের দর্শকদের উদ্দেশে ম্যাকলমোর বলেন, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ কথাটি কারও বিরুদ্ধে নয়, এটি বিভাজন তৈরিরও আহ্বান নয়। এটি ঘৃণা ছড়ানোর ডাক নয়; বরং সবার অভিন্ন মানবিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান।

এরপর ২৯ অক্টোবর প্যারিসের অ্যাকর অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত হয় সফরের দ্বিতীয় কনসার্ট। এতে অংশ নেন অরোরা, পম, পর্তুগাল দ্য ম্যান, ডিজে হাবিবিটস, রেডভেইল, সিবা, তামের নাফার, জিউহতেজকাটল মার্তিনেজ ও জেইন।

প্যারিসের দর্শকদের উদ্দেশে ম্যাকলমোর বলেন, ‘আজ রাতে আমরা এসেছি সবার সম্মিলিত মুক্তির জন্য। আমরা এসেছি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনের জন্য। আমরা এসেছি এই পৃথিবীকে নিজেদের আবাসস্থল হিসেবে বেছে নেওয়া সব মানুষের জীবন ও মর্যাদা উদ্‌যাপন করতে।’

তিনটি কনসার্টেই অধিকারকর্মী, ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। তারা মঞ্চ থেকে দখলদারত্বের অবসান এবং এ বিষয়ে আরও জোরালো রাজনৈতিক চাপ তৈরির আহ্বান জানান।

ম্যাকলমোরের কাছে এই সফর ছিল একদিকে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ, অন্যদিকে এড শিরানের সফর থেকে বাদ পড়ার পর তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাব। ওয়েম্বলির দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, কিছু বলা মানবিকতার পরিচয়। আর গাজার ওই শিশুরা আমাদের সন্তান। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিভাজন নেই।’

কনসার্টের অর্থ যাবে ১২টি সংগঠনের কাছে

তিনটি কনসার্টই ছিল অর্থ সংগ্রহের আয়োজন। এসব অনুষ্ঠান থেকে পাওয়া সব অর্থ ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ১২টি সংগঠনের কাছে দেওয়া হবে।

সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে মেডিক্যাল এইড ফর প্যালেস্টাইনস, জিউইশ ভয়েস ফর পিস, প্যালেস্টিনিয়ান ইয়ুথ মুভমেন্ট, ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং গ্লিয়া।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও মানবিক সহায়তার পক্ষে সংগীত, সংস্কৃতি ও অধিকারকর্মীদের একত্র করে ম্যাকলমোরের এই আয়োজন তিনটি ইউরোপীয় শহরে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

মুসলিমবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অঙ্গীকার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

মুসলিম সম্প্রদায়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র

ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক বয়কটের দাবি

মহাকাশে সবুজ নক্ষত্রের সন্ধান, মিলেছে গোলাপি তারাও

ব্রিটেনের প্রায় অর্ধেক নাগরিকই দেশের জন্য যুদ্ধ করতে চান না: জরিপ

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে অস্ত্র রাখায় ব্রিটিশ সেনার কারাদণ্ড

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়ে ইসরাইলের চাপে ব্রিটেন, জেরুজালেমে মিশনের কাজে অনিশ্চয়তা

তরুণ-তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা কেন বাড়ছে

ক্যানসারের যেসব লক্ষণ উপেক্ষা করলে বাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি

খাদ্যপণ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত হচ্ছে হালাল অর্থনীতি