মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বাতিল ও পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটায় ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও আইবেরিয়ার মূল মালিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস গ্রুপের (আইএজি) নিট মুনাফা চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ১২ শতাংশের বেশি কমেছে।
প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে তাদের কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১২৩ কোটি ইউরো (প্রায় ১৩৭ কোটি ডলার)। গত বছরের একই সময়ে এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ১৪০ কোটি ইউরো। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা কমেছে ১২ শতাংশের বেশি।
আইএজি জানিয়েছে, টিকিটের তুলনামূলক বেশি দাম থেকে আয় বাড়লেও বিভিন্ন কারণে ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা কমে যাওয়া এবং জেট জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সেই সুবিধা পুষিয়ে দিতে পারেনি। বিশেষ করে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির জ্বালানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি উড়োজাহাজের ইঞ্জিনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রয়োজনীয় উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া এবং বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় বিঘ্নও পরিচালন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আইএজির ভাষ্য অনুযায়ী, টিকিটের উচ্চমূল্য থেকে পাওয়া বাড়তি আয়কে ছাপিয়ে গেছে জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ফ্লাইট পরিচালনায় সৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতা। ফলে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফায় বড় ধরনের পতন হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন খাতের জন্য নতুন করে ব্যয়ের চাপ তৈরি করছে। আইএজির মুনাফা কমে যাওয়ার পেছনেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এআরবি