কক্সবাজারের সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগঠন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার-জেইউসি’র আহ্বায়ক কমিটি দেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীকে আইনি নোটিশ নেয়া হয়েছে। ওই নোটিশে বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে ‘আদালত অবমাননা’র অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে নোটিশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর গঠিত আহ্বায়ক কমিটি বাতিল না করলে আদালত অবমাননার সুস্পষ্ট অভিযোগ এনে মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
জুরিস্টস কনসোর্টিয়ামের মক্কেল নাছির উদ্দিন আল নোমানের পক্ষে এ নোটিশ দিয়েছেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। সোমবার (২১ এপ্রিল) রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওই নোটিশে বলা হয়, চলতি বছরের ২৫ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি আতাবুল্লাহর একক বেঞ্চের দেয়া স্থগিতাদেশের আদেশ বিচারাধীন থাকাকালিন গত ১২ এপ্রিল সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার-জেইউসি’র আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য এ নোটিশ দেয়া হয়েছে।
সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার এর ৬৭ নম্বর সদস্য নাছির উদ্দিন আল নোমানসহ ১০ জন সদস্য ইউনিয়নের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে ভোটাধিকার চেয়ে ২০২৪ সালে কক্সবাজার সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনে তাদের ভোটাধিকার না দিয়ে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন। ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারিত সেই নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ওই মামলার ৩ নম্বর বিবাদী আদালতে ওই অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ সেই আপিলের শুনানি শেষে ‘অত্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই’ জেলা জজ আদালত অভিযোগ প্রত্যাখ্যানের আবেদন মঞ্জুর করেন।
ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের অবকাশকালীন বিচারপতি আতাবুল্লাহর এক বেঞ্চে জেলা জজের ওই আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন নাছির উদ্দিন আল নোমান ও অন্য সদস্যরা। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করে জেলা জজের আদেশের বিরুদ্ধে অস্থায়ী স্থগিতাদেশ দেন।
নোটিশে বলা হয়, জেলা জজের ডিগ্রির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ পেয়েও বিবাদীগণ জেইউসি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু করেন। পরে নির্বাচন করতে না পেরে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজের কর্মকর্তাগণ সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারে ‘অচলাবস্থা’র কথা বলে নিজেদের মতো করে একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন।
নোটিশে দাবি করা হয়, তাদের এ কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অবৈধ এবং মাননীয় আদালতে মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি চরম অবমাননার একটি ইঙ্গিত। তথাকথিত কমিটি গঠন এখতিয়ারহীন, কারণ বিএফইউজে’র গঠনতন্ত্রে কোথাও তাদের কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বিএফইউজে’র এই পদক্ষেপকে হাইকোর্ট বিভাগের হস্তক্ষেপের প্রতিশোধ হিসেবে বিবেচিত বলে মন্তব্য করা হয়।
এই আইনি নোটিশে দাবি করা হয়, বিএফইউজে’র নির্বাহী কমিটির অঙ্গ ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ক্ষমতা নেই, তাই মাননীয় আদালত প্রদত্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর করার সময় সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারে কোনও অচলাবস্থা নেই। তারা আদালতের কর্তৃত্বকে অগ্রাহ্য করতে পারে না।
নোটিশ প্রদানকারী আইনজীবী নোটিশপ্রাপ্ত সাংবাদিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘আপনি মাননীয় আদালত প্রদত্ত স্থগিতাদেশ আদেশকে অমান্য করেছেন।
তিনি তাদের বলেন, আপনি হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন ওই আদেশ এবং প্রথম আপিল সম্পর্কে অবগত আছেন। আপনি কেবলমাত্র ওই স্থগিতাদেশের আদেশকে ব্যর্থ করার জন্যই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছেন, যা অবমাননাকর, আপনি ইতোমধ্যেই আদালত অবমাননার অপরাধ করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

