মধ্যরাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ: ওপারে গর্জন, এপারে আতঙ্ক

মধ্যরাতে পরপর বিস্ফোরণের শব্দ: ওপারে গর্জন, এপারে আতঙ্ক
ছবি: আমার দেশ

কক্সবাজারের সীমান্ত জনপদ উখিয়া ও টেকনাফ এবং পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের ওপারে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পরপর চারটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সীমান্তের এপার।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার মধ্যরাত ১টা ৩৬ মিনিটের দিকে এসব বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। মুহূর্তেই পুরো সীমান্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সীমান্ত এলাকার অধিবাসীদের সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার উলুবনিয়া, হোয়াইক্যং ও হ্নীলা; উখিয়া উপজেলার আঞ্জুমানপাড়া, নলবনিয়া, রহমতের বিল ও ধামনখালী এবং পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম, তুমব্রু, জলপাইতলী, আছারবনিয়া ও চাকমাপাড়া সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে এ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা রশিদ আহমেদ বলেন, ‘মধ্যরাতে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। ওই সময় ঘরবাড়ি ও মাটি কেঁপে ওঠে। তবে কিসের শব্দ, তা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারিনি।’

একই ইউনিয়নের নয়াপাড়ার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, ‘বহুদিন ধরে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দে রাতে ঘরে থাকতেও ভয় লাগে।’

আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা মোহাম্মদ আরাফাত জানান, শুক্রবার মধ্যরাত দেড়টার দিকে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমার অংশ থেকে পরপর চারটি বিকট শব্দ ভেসে আসে এবং এ পারের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে।

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা সীমান্তের ওপার থেকে বিকট চারটি শব্দ শুনেছি। মনে হয়েছে, বিমান হামলা বা বড় ধরনের বোমা ফেলা হয়েছে। এরপরও রাতে থেমে থেমে ভারী ও হালকা গুলির শব্দ ভেসে এসেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণগুলো মিয়ানমারের ঠিক কোন এলাকায় বা কী কারণে ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তাঁদের ধারণা, মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।

বিস্ফোরণের বিষযটি নিশ্চিত করে বিজিবির উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ৩০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টা ৩৬ মিনিটে উখিয়া ব্যাটালিয়নের আওতাধীন খারাংখালী সীমান্ত ফাঁড়ির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বিজিবি জানায়, খারাংখালী সীমান্ত ফাঁড়ির বিআরএম-১৫ থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার উত্তর-পূর্বে, সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে প্রায় ২.৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে 'প্রমাচংওয়া' এলাকার ত্রিমুখী মোহনা নামক স্থানে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

বিজিবির ধারণা, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি টহল জোরদার করেছে বিজিবি।

উল্লেখ্য, এর আগেও চলতি বছরের ১০ আগস্ট রাত ১০টার পর টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তের ওপারে একের পর এক গুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারের রামু সেক্টরের আওতাধীন নাইক্ষ্যংছড়ির ৬২ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে সেন্টমার্টিন পর্যন্ত প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। ধারাবাহিক সংঘাতের জের ধরে ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর আরাকান আর্মি মংডু শহরসহ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭১ কিলোমিটার এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। বিভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে ছোঁড়া গুলি ও মর্টার শেল বাংলাদেশে এসে পড়ে সীমান্ত এলাকার বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি হতাহত হয়েছেন।

Ñএমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন