কুলসুম ফিরতে চান পরিবারের কাছে

 কুলসুম ফিরতে চান পরিবারের কাছে
ছবি: আমার দেশ

স্বামী-সন্তানের নাম মনে আছে, মনে আছে পরিবারের অনেক স্বজনের কথাও; কিন্তু শুধু মনে করতে পারছেন না নিজের বাড়ির ঠিকানা। কোথায় তার বাড়ি আর কোন গ্রামে তার সংসার— কিছুই বলতে পারছেন না প্রায় ৭০ বছর বয়সী কুলসুম বেগম। তার এখন একটাই আকুতি, শেষ বয়সে পরিবারের কাছে ফিরে যেতে চান তিনি।

বিজ্ঞাপন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে বর্তমানে কুলসুম বেগমের আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়েছে। ঠিকানা হারিয়ে দীর্ঘদিন পথে পথে ঘুরছিলেন তিনি। দিন কাটছিল মানুষের দুয়ারে দুয়ারে; কেউ খাবার দিলে খেতেন, আবার কেউ আশ্রয় দিলে রাত কাটাতেন। তার এমন অসহায় অবস্থার কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসে স্থানীয় মানবিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাশে দাঁড়াই’।

সংগঠনটির উদ্যোগে আপাতত তার অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং পাশাপাশি স্বজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তবে পরিবারের সদস্যদের নাম বলতে পারলেও নিজের থানা, জেলা, ইউনিয়ন কিংবা গ্রামের নাম সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তিনি।

কুলসুম বেগমের ভাষ্য অনুযায়ী, তার স্বামীর নাম মোক্তার সিকদার (কুদ্দুস)। তাদের চার সন্তান— ছেলে ইব্রাহিম এবং তিন মেয়ে সুফিয়া, ফিরোজা ও পারুল। এ ছাড়া দেবর জব্বার, হামিদ ও সত্তারের নামও তিনি জানাতে পেরেছেন। তার স্বামী বাড়িতে ধান-চালের ব্যবসা করতেন বলেও জানান তিনি।

তবে নিজের বাড়ির ঠিকানা জানতে চাইলে কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না। শুধু বারবার উচ্চারণ করছেন একটি নাম—‘ঝিকরগাছা’। এই নামটিই এখন তার পরিবারের সন্ধান পাওয়ার অন্যতম সূত্র। মুখে তার একটাই কথা, ‘আমি বাড়ি ফিরতে চাই।’

‘পাশে দাঁড়াই’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন) জানান, কুলসুম বেগমের পরিবারের সন্ধান পেতে তারা জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন। পরিবারের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত তার নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। তাকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।

বৃদ্ধা কুলসুম বেগমকে কেউ চিনে থাকলে অথবা তার পরিবারের সন্ধান জানা থাকলে সংগঠনটির সভাপতি নয়নাভিরাম গাইন (নয়ন)-এর সঙ্গে ০১৭ ১০ ৭৮ ৩২৬৩ নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন