আইনশৃঙ্খলা সভায় চুরি-জুয়ার অভিযোগ, উঠল সমন্বয়ের প্রশ্ন

আইনশৃঙ্খলা সভায় চুরি-জুয়ার অভিযোগ, উঠল সমন্বয়ের প্রশ্ন
বুধবার অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভা। ছবি: আমার দেশ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত সভায় নানা পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হলেও সেসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিনদুপুরে চুরির ঘটনা, জুয়া ও ডাকাতির আশঙ্কা এবং কিশোর-তরুণদের ক্রমবর্ধমান মোবাইল আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন ও থানা পুলিশের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা আইনশৃঙ্খলা ও মাসিক সমন্বয় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে চুরি, ডাকাতি ও জুয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

সভায় বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময় সভায় আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে দিনের বেলাতেই চুরির ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হচ্ছে।

সভায় আরও বলা হয়, অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে আগাম নজরদারি বাড়ানো জরুরি। বাজার, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, আবাসিক এলাকা ও অপরাধপ্রবণ স্থানগুলোতে নিয়মিত পুলিশি টহল এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হলে চুরি-ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

আইনশৃঙ্খলার পাশাপাশি বোরহানউদ্দিনের যুবসমাজের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ও আসক্তির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কিশোর-তরুণদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পড়াশোনা, খেলাধুলা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সামাজিক জীবনে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও সচেতনতামূলক কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রচার এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের মতে, তরুণদের অপরাধ ও নানা অনলাইন ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে শুধু পরিবার নয়, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও একযোগে কাজ করতে হবে।

এদিকে একটি সূত্রের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রত্যাশিত মাত্রায় পারস্পরিক সমন্বয় না থাকায় বিভিন্ন সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করা প্রয়োজন।

সচেতন মহলের মতে, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শুধু আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় এবং পরবর্তী সভায় আগের সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা জরুরি।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনোরঞ্জন বর্মন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রণজিৎ চন্দ্র দাস, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কাজী মো. আজম, যুগ্ম আহ্বায়ক ফিরোজ কাজী, উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ইশরাত জাহান বনি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

সভায় চুরি, ডাকাতি ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যেন কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দিনদুপুরে চুরি বন্ধ, জুয়া নিয়ন্ত্রণ, অপরাধপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজকে মোবাইল আসক্তি ও অপরাধের ঝুঁকি থেকে দূরে রাখতে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। কারণ, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সভা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, সভার সিদ্ধান্ত মাঠে বাস্তবায়ন করাই তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন