নেত্রকোনার কলমাকান্দা ও পূর্বধলা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে এক বছর, ১৮ মাস ও ছয় বছর বয়সি তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতী ইউনিয়নের কালাইকান্দি ও পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে এবং পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো—কলমাকান্দার রংছাতী ইউনিয়নের কালাইকান্দি গ্রামের রাজিব মিয়ার একমাত্র ছেলে মোয়াজ (১), পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামের টিটু মণ্ডলের ছেলে তাসকিন তারেক (১৮ মাস) এবং পূর্বধলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামের সুমন মিয়া (৬)।
পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালাইকান্দি গ্রামের বাড়ির উঠানে খেলছিল শিশু মোয়াজ। পরিবারের সদস্যরা তখন ঘরের ভেতরে গৃহস্থালির কাজে ব্যস্ত ছিলেন। খেলতে খেলতে হামাগুড়ি দিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় সে। কিছুক্ষণ পর তাকে উঠানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে পুকুরে শিশুটিকে হাবুডুবু খেতে দেখে তার মা চিৎকার দিলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. হাসিবুল হাসান তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর, দুপুর দেড়টার দিকে একই উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের শুনই গ্রামে বাড়ির পাশে জমে থাকা বর্ষার পানিতে ডুবে মারা যায় ১৮ মাস বয়সি তাসকিন তারেক।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দুপুরে বাড়ির সামনে খেলছিল তাসকিন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশে জমে থাকা পানিতে নেমে খেলতে গিয়ে সে ডুবে যায়। এ সময় তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাসকিনকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির পাশের ডোবার পানিতে তাকে ভাসতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলমাকান্দা থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পূর্বধলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের জামুদ গ্রামে দুপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায় ছয় বছর বয়সি সুমন মিয়া।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সকালে খাবার খেয়ে বাড়ির উঠানে সমবয়সি শিশুদের সঙ্গে খেলছিল সুমন। এ সময় তার বাবা জমিতে চাষের কাজে চলে যান। পরে তার মা প্রতিবেশীর বাড়িতে হাঁসের খাবার আনতে গেলে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির সামনের পুকুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায় সে।
সুমনের সঙ্গে খেলছিল তার সাত বছর বয়সি চাচাতো ভাই মোস্তাকিম। সে সুমনকে পুকুরে পড়ে সাঁতার কাটতে দেখলেও বয়স কম হওয়ায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারেনি।
পরে সুমনকে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে মোস্তাকিম বিষয়টি জানালে পুকুরে খোঁজ শুরু হয়। পরে প্রতিবেশীরা পানিতে সুমনকে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পূর্বধলা থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

