সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় সন্দেহভাজন বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টায় রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আখতার মিয়ার কলোনি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপলু চৌধুরী সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের দাবি, আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ছুরিটি পাশের ঝোপঝাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে বাসার সামনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সাংবাদিকদের জানান, ঐ বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে কয়েক দিন যাবৎ বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্ক অনুযায়ী আগে থেকেই কোনো অভিসন্ধি ছিল তাদের মধ্যে। এরই সূত্রধরে বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় বাবুল মিয়া ঐ বাসায় আসলে তাহমিনা দরজা খুলে দেয়। পূর্বের অভিসন্ধি অনুযায়ী ফিজিক্যাল্লি রিলেশনশিপের একটি অভিপ্রায় ছিল। তা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করে। তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, পূর্বপরিকল্পনা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এঘটনায় ভিকটিমদের পক্ষ থেকে মামলা প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

