শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ইয়াসারের জিপিএ-৫

শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ইয়াসারের জিপিএ-৫

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থামিয়ে দিতে পারেনি অদম্য ইচ্ছাশক্তি। প্রতিদিন হুইলচেয়ারে করে তাকে তার বাবা অথবা মা বিদ্যালয়ে দিয়ে আসতেন। খাবার-দাবারসহ অন্যান্য কাজে অন্যের সহযোগিতা নিতে হয়। তার কোনো গৃহশিক্ষক ছিল না। প্রতিবন্ধকতা কাউকে ঠেকাতে পারে না, তারই দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে ইয়াসার।

ছুটি হলে কখনো বাবা, কখনো মা, আবার কখনো শিক্ষক কিংবা সহপাঠী বাড়ি পৌঁছে দিতেন তাকে। দুই হাতের কবজি বাঁকা বলে নিজের মতো করে চলাফেরা করতে পারে না ইয়াসার ইসলাম নিরব।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু পড়ার টেবিলে বসলে যেন সব সীমাবদ্ধতা ভুলে যায় সে। বাম হাতে কলম ধরে একের পর এক পৃষ্ঠা লিখে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পেয়েছে ইয়াসার।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামের দরিদ্র কৃষক সিরাজুল ইসলাম ও খাদিজা খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে ইয়াসার সবার বড়। এক বছর বয়সে মা-বাবা বুঝতে পারেন, ছেলের দুই হাতের কবজি অস্বাভাবিকভাবে বাঁকছে। চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গায় ছুটেছেন তারা। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হয়নি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শারীরিক সীমাবদ্ধতাও। একা হাঁটতে পারে না ইয়াসার। দৈনন্দিন অনেক কাজেই অন্যের সহযোগিতা নিতে হয় তাকে।

তবু ছেলের পড়াশোনা থামিয়ে দেননি বাবা। কোলে করে বাড়ির পাশের পলাশতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান তাকে। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ইয়াসার ভর্তি হয় পলাশতলী আমিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিদিন হুইলচেয়ারে করে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যেতেন মা-বাবা। শুরুতে তাকে নিয়ে উপহাসও করেছেন গ্রামের কেউ কেউ।

নিরবের বাবা-মা ও শিক্ষকরা জানান, ছেলের স্বপ্ন ভবিষ্যতে এমবিবিএস ডাক্তার হওয়ার। ভবিষ্যতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে চায় সে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, নিরব অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। পড়াশোনার প্রতি ছিল তার আন্তরিকতা, সহপাঠীদের কাছেও ছিল প্রিয়। তিনি আরও বলেন, নিরবের স্বপ্ন এমবিবিএস ডাক্তার হওয়া। গরিব কৃষকের ছেলে তার স্বপ্ন পূরণে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা শিক্ষক সমাজ ও এলাকাবাসীও তাঁর পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম সোহাগ বলেছেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি হুইলচেয়ার, নগদ অর্থ ও ফুলের শুভেচ্ছা পাঠানো হয়েছে। ইয়াসারের অদম্য ইচ্ছাশক্তি প্রশংসনীয়। পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

নিরবের সাফল্যে পরিবার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেমন আনন্দিত, তেমনি গর্বিত এলাকাবাসীও।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন