যেখানে একসময় দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় আর হাজারো দর্শকের করতালিতে মুখর থাকত, সেটি এখন ভূতুড়ে পরিবেশ আর মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল। নেই ফুটবলের জোরালো কিকের শব্দ কিংবা চার-ছক্কার করতালির আওয়াজ। ভোলার তজুমদ্দিনের একমাত্র স্টেডিয়াম এখন মাদকসেবীদের দখলে। স্টেডিয়ামটিতে এখন আর হয় না কোনো ঘরোয়া লীগ। সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীরা তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা হিসেবে বেছে নেন স্টেডিয়ামটিকে।
এ বিষয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায়, ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্টেডিয়ামের নবীন-প্রবীণ খেলোয়াড়সহ স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আশির দশকের সময়ে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ‘বড় বাড়ি’র নামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকজন চাঁদপুর হাই স্কুলের মাঠ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় তিন একর জমি দান করেন। পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন এরশাদ সরকারের আমলে এই মাঠটিকে সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে দুটি মিনি গ্যালারি এবং গোলপোস্টসহ পূর্ণাঙ্গ একটি স্টেডিয়ামে রূপান্তর করা হয়। যেটি বর্তমানে ডাকবাংলো স্টেডিয়াম নামে পরিচিত।
চাঁদপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৭৬ বয়সি প্রবীণ খেলোয়াড় শহিদ জানান, আমরা এই মাঠে ফুটবল খেলতাম, তখন আন্তঃজেলার বিভিন্ন খেলা হতো এখানে। এই মাঠ, স্কুল এবং ডাকবাংলোসহ পুরো জমিটাই ছিল বড়বাড়ি পরিবারের। শুধু ৪৫ টাকার বিনিময়ে ৪০ শতক জমি স্থানীয়ভাবে ডাকবাংলো ভবন করার জন্য নেওয়া হয়।
আরেক প্রবীণ খেলোয়াড় মধুসূদন দাস বলেন, আমাদের সময়ে বৃহত্তর নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলার খেলা হতো এখানে। এখন আর হচ্ছে না।
স্থানীয় শিক্ষক ও খেলোয়াড় ছালেহ উদ্দিন বলেন, পাঁচ বছর আগেও এখানে বিভিন্ন ঘরোয়া লীগ, আন্তঃজেলা এবং ডিসি কাপ টুর্নামেন্ট হতো। তখন মাঠে একবার বালু ফেলে রেখে দেওয়া হয় পরবর্তীতে আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি। গ্যালারিগুলোও ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়াম জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে থাকা আর মাদকসেবীদের আড্ডার কথা স্বীকার করেন তজুমদ্দিন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব এম এ হালিম। তিনি বলেন, যেহেতু আমাদের নতুন কমিটি হয়েছে ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ইউএনওর সঙ্গে দ্রুত মিটিং ডেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিব।
এ বিষয়ে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক বনি আমিন বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। ক্রীড়া সংস্থার কমিটির সঙ্গে বসে আমরা খুব শিগগিরই স্টেডিয়ামটি ভিজিট করব এবং বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনে স্পিকারকে অবহিত করব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


হুমকির মুখে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ