বকেয়া বেতনের দাবিতে প্রধান ফটকে বিক্ষোভ

কর্ণফুলীতে সোয়েটার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ

কর্ণফুলীতে সোয়েটার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ
ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি সোয়েটার কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবীতে কারখানার প্রধান ফটকে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। বুধবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরনীর হাট বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন লিমিটেডে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও কর্ণফুলী থানা পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।

বিক্ষোভরত সাধারণ শ্রমিকরা জানান, কারখানাটি বছরে বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকে। নিয়মিত বেতন দেওয়া হয় না। এক মাসের বেতন দিতে দিতে আরেক মাস চলে যাওয়ার সময় হয়। আজকে আগস্ট মাসের ১২ তারিখ। এখনো জুন মাসের বেতন পরিশোধ করেনি। কখন পরিশোধ করবে তাও নির্দিষ্ট করে বলছে না।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক বলেন, দুই মাসের বেতন বাকি। চলতি মাসসহ তিন মাস হবে। আমরা কীভাবে চলি। বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। দোকানে বাকি জন্য চাপ দিচ্ছে। রাত-দিন পরিশ্রম করে মাস শেষে যদি ঠিকমতো বেতন না পাই, তাহলে কেন আমরা মাসের পর মাস এভাবে কাজ করে যাব।

জানা যায়, বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক । তার শেয়ারবাজারসহ আরো অন্যান্য ব্যবসাও আছে।

কর্ণফুলী উপজেলার ফকিরনীর হাট এলাকায় বিএলপি ওয়ার্ম ফ্যাশন লি: নামে একটি সোয়েটার কারখানা পরিচালনা করেন তিনি। কারখানায় দুই থেকে আড়াইশ শ্রমিক কাজ করে। শ্রমিকদের বেতন ভাতা নিয়মিত পরিশোধ করতে না পারায় বারবার শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দেয় কারখানাটিতে। শ্রমিকরা আন্দোলন করলে পুলিশ গিয়ে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ সেই কথা রাখে না।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানের টাকার অভাব নেই। এখন যদি কারখানার পাশে কেউ একটি জমি বিক্রি করে তাহলে যত টাকা হোক সেটা নিয়ে নিবেন। কিন্তু শ্রমিকদের বেতনগুলো মাসের পর মাস বকেয়া রেখে দেন।

কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাইফুল বলেন, সারা বছর যদি কারখানায় বেতন নিয়ে ঝামেলা করে শ্রমিকরা কীভাবে চলবে। বার বার এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ স্থায়ী কোনো সমাধান দিচ্ছে না। কারখানায় শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করায় শ্রমিকদের সাথে আরো জঘন্য আচরণ করছে কর্মকর্তারা।

শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো.হেলাল বলেন, আমাদের সাফ কথা, আগে আমাদের একাউন্টে বকেয়া বেতনের টাকা ঢুকবে তারপর আমরা কাজে যোগ দেব।

কারখানার ব্যবস্থাপক শহীদুল আজম বলেন, আমরা চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলেও তারা কারো কথা মানছে না। নানা কারণে কারখানা চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। সাত আট বছর হলেও আমরা এখনো গ্যাস সংযোগ পাইনি। আরো নানা পারিপার্শ্বিক কারণে বেতন পরিশোধে একটু দেরি হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শিল্প পুলিশের পরিদর্শক গোলাম নবী জানান, শ্রমিক অসন্তোষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে একটা সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করেছি। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ আরো কয়েকদিন সময় চাইলে শ্রমিকরা রাজি হননি। শ্রমিকরা বলছেন, বকেয়া বেতন একাউন্টে ঢুকার পরেই তারা কাজে যোগ দেবেন। তবে কারখানায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পরে শ্রমিকরা যে যার মত বাড়িতে চলে যান।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন