চাঁদপুরের মতলব উত্তরে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ উঠেছে। এতে করে চরম ভোগান্তি ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে গ্রাহকদের মধ্যে।
একদিকে তীব্র গরমে লোডশেডিং, অন্যদিকে চড়া মূল্যের বিদ্যুৎ বিল—সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা।
উপজেলার মধ্যে ইসলামাবাদ গ্রামের বাসিন্দা দুলাল দর্জি জানান, আগে প্রতি মাসে বাসার বিল আসত ২ হাজার টাকার কম । কিন্তু জুলাই মাসে বিল আসছে ৫ হাজার টাকা।
উপজেলার সুজাতপুর গ্রামের নয়ন দাস জানান, আগে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত। কিন্তু জুলাই মাসে তার বিল হয়েছে ৬৫০ টাকা।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অংকন দাস জানান, তার দোকানে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসত। এ মাসে তার ২ হাজার ২০০ টাকা বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ উপজেলায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকে না।
চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (২) এজিএম মো. নাইম জানান, চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। মতলব উত্তরে চাহিদা এই মুহূর্তে ২৭ মেগাওয়াট কিন্তু আমরা পাচ্ছি ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক আসার কোনো সুযোগ নেই। গ্রাহক যা ব্যবহার করে সেটাই বিদ্যুৎ বিল আসে।
এদিকে বিদুৎ সরবরাহ কম থাকলেও গত দুই মাস ধরে গ্রাহকদের অস্বাভাবিক ও ভূতুরে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আয় কমে যাওয়ার এই দুর্দিনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করা হলে মতলব উত্তর জোনাল অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা গ্রাহকদের হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, কোনো ধরনের মিটার রিডিং ছাড়াই মনগড়া ও অতিরিক্ত বিল তৈরি করা হয়। পরে তা গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্রাহক চরম হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

