মহেশখালীতে প্যারাবন ধ্বংস করে গড়ে উঠছে চিংড়ি ঘের, লবণের মাঠ

মকছুদুর রহমান, মহেশখালী (কক্সবাজার)

মহেশখালীতে প্যারাবন ধ্বংস করে গড়ে উঠছে চিংড়ি ঘের, লবণের মাঠ

ঘটিভাঙ্গা থেকে সোনাদিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৯ হাজার একর প্যারাবন ধ্বংস করে গড়ে উঠছে চিংড়ি ঘের ও লবণের মাঠ। সময়ের গতির সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে প্যারাবন । এই প্যারাবন রক্ষায় কেউ এগিয়ে আসছে না।

কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার পশ্চিমে সোনাদিয়া দ্বীপ। লাল কাঁকড়া, কাছিম ও বিরল প্রজাতির পাখির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত দ্বীপটির ‘প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে আইন অনুযায়ী, সোনাদিয়ার মাটি, পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা বাণিজ্যিক রূপান্তর নিষিদ্ধ। তবে ইকোট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গত আওয়ামী লীগ সরকার ১ হাজার ১ টাকার বিনিময়ে সোনাদিয়ার ৯ হাজার একর বনভূমি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) কাছে বরাদ্দ দেয়। যেখানে সবুজ প্যারাবনে ভর্তি ছিল দ্বীপের চারপাশ।

বিজ্ঞাপন

মহেশখালী উপজেলার ঘটিভাঙ্গা ঘাট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমমুখী খাল ধরে সোনাদিয়ার দিকে এগোলে দুই পাশে চোখে পড়ে দীর্ঘ মাটির বাঁধ। দূর থেকে মনে হতে পারে নতুন কোনো সড়ক নির্মাণ হচ্ছে। কিন্তু বাঁধের ভেতরে উঁকি দিলেই ভেসে ওঠে ভয়াবহ এক ধ্বংসযজ্ঞ। হাজার হাজার একর প্যারাবন কেটে তৈরি করা হয়েছে মাছের ঘের। সেই কুতুবজোম ইউনিয়নের স্থানীয় লোকজন জানান, ঘটিভাঙ্গা থেকে সোনাদিয়া পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় ৯ হাজার একর প্যারাবন ধ্বংস করে তৈরি হয়েছে চিংড়ি ঘের ও লবণের মাঠ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের দুই পাশে মাটির উঁচুবাঁধ দিয়ে ঘেরা বিশাল এলাকা। একসময় যেখানে ঘন কেওড়া, বাইন ও জাতীয় গাছের প্যারাবন ছিল, সেখানে এখন সারি সারি ঘের। এই ৯ হাজার একর প্যারাবন নিধন করে কম হলেও এখন ৯০টি চিংড়ি মাছের ঘের আছে।

স্থানীয়রা জানান, শুষ্ক মৌসুমে এসব জমিতে লবণ উৎপাদন করা হয়। বর্ষা এলেই একই জমি রূপ নেয় চিংড়ি ঘেরে। বিভিন্ন জায়গায় এখনো চলছে বাইন গাছ কাটা। কিছু এলাকায় বনভূমি পরিষ্কার করতে গাছ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনাও ঘটছে ।

বন বিভাগের মহেশখালী গোরকঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, বন বিভাগকে ৫ হাজার একর জায়গা দিলেও এখনো আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ঘের কেটে দেওয়ার পক্ষে এখনো স্পষ্ট কোনো ম্যাসেজ নেই।

ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, প্যারাবন নিধনকারীরা এখন সশস্ত্র পাহারা বসিয়ে কাজ চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে পারছে না।

মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, আগেও অভিযান চালানো হয়েছে। নতুন ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, সোনাদিয়ার প্যারাবন নিধনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫৩ দখলদারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন