চার দশক ধরে অবহেলিত কুমিল্লার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

চার দশক ধরে অবহেলিত কুমিল্লার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবন। ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান। সেই সঙ্গে আধুনিক শৌচাগার ও লাইব্রেরি না থাকা এবং প্রয়োজনীয় বেঞ্চ সংকটের কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাড়িতে আতঙ্কে দিন কাটে অভিভাবকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় শিক্ষানুরাগী জুনাব আলীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৮৭ সালে এক একর জায়গার ওপর মোকাম ইউনিয়নের নিমসার বাজারে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন রয়েছে। দোতলা ভবনটি প্রতিষ্ঠাতা জুনাব আলী তৈরি করে দিয়েছিলেন। আরেকটি ভবন ফ্যাসিলিটিস থেকে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দুটি ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে । একটু বৃষ্টি নামলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এ সময় ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান থেকে বিরত থাকতে হয়। পাকা ভবনটি দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা উঠে গেছে। ছাদের রডগুলো কঙ্কালের মতো বেরিয়ে রয়েছে। দরজা-জানালার অবস্থাও নাজুক।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিমসার এনেছিলেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম জুনাব আলী । নিমসারে এসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বক্তব্য দিয়েছিলেন, যে কারণে অনেকেই এটাকে ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠান’ বলে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩০০ জন। শিক্ষক ১২ জন আর চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন চারজন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজশ্রী পাল গত পাঁচ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করছে। সে বলে, বর্ষার সময় আমরা খুব আতঙ্কে থাকি। ঝড়বৃষ্টি এলেই বৃষ্টিতে বইখাতা ভিজে যায়। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন দেওয়ার জন্য।

অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সামিয়া আক্তার বলে, ক্লাসরুমের দেয়ালগুলো ফেটে আছে। রডগুলো দেখা যায়। এগুলো দেখলেই ভয় লাগে। আমাদের স্কুলে একটি চারতলা ভবন খুবই জরুরি ।

তাহেরা জুনাব আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠাতা জুনাব আলীর মেয়ে শাহিনা আক্তার বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবগুলো ভবন জরাজীর্ণ। ছাত্রীদের খুবই সমস্যা হচ্ছে পাঠদানে। নতুন একটি ভবন এবং সংস্কার করার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

৩২ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করছেন মো. আবুল হোসেন। তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত। কিন্তু অবকাঠামোগত কারণে ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। নারী শিক্ষার কথা বললেও সরকার এ প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দেয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, গত ১৪ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে আমি শিক্ষকতা করছি । ভবনের জন্য যখনই আবেদন করেছি, তখন বলা হতো এটা বিএনপির প্রতিষ্ঠান, এখানে ভবন দেওয়া হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে রাজনীতি আমার পছন্দ নয়। এখানে এই এলাকার মেয়েরা পড়ালেখা করতে আসে। জরাজীর্ণ ভবনের কারণে দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। এই স্কুলে পড়ে অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার ও শিক্ষক হয়েছে।

বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির হোসেন বলেন, ছবিতে দেখেছি ভবনটির অবস্থা খুবই নাজুক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে সংস্কার করার জন্য কিছু বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করব।

কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আলী রাজীব মাহমুদ মিঠুন বলেন, আমি বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলব। ওনার মাধ্যমে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন