১৪ জনের কিলিং স্কোয়াড, ৭টি মোটরসাইকেল, ১০ অস্ত্র!

১৪ জনের কিলিং স্কোয়াড, ৭টি মোটরসাইকেল, ১০ অস্ত্র!

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় সংঘটিত ডাবল মার্ডারের ঘটনায় সংঘবদ্ধ কিলিং মিশনের চিত্র উঠে এসেছে। পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল ১৪ জন, যারা মোট ৬-৭টি মোটরসাইকেলে করে প্রাইভেটকারটিকে ধাওয়া করে। হামলাকারীদের অন্তত ১০ জনের কাছে ছিল পিস্তল ও শর্টগান। শুধু তাই নয়, যেই প্রাইভেটকারটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল, সেটি থেকেও পাল্টা গুলি চালানো হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক থেকে চট্ট মেট্রো-গ-১২-৯০৬৮ নম্বরের একটি প্রাইভেটকারকে ৬-৭টি মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী ধাওয়া করে। পরবর্তীতে চকবাজার থানাধীন এক্সেস রোডের শেষ মাথায়, সিরাজ উদ-দৌলা রোডের পাশে অবস্থিত ‘ঢাকাইয়া খানা’ দোকানের সামনে তারা প্রাইভেটকারটি থামিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

এই হামলায় মো. বখতিয়ার হোসেন প্র. মানিক (২৮) ও আব্দুল্লাহ আল রিফাত (২২) গুরুতর আহত হলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া রবিউল হোসেন হৃদয় ও রবিন নামে আরও দুইজন আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মো. বেলাল (২৭) ও মোটরসাইকেল সরবরাহকারী ও পরিকল্পনাকারী মো. মানিককে (২৪) বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে।

সিসিটিভি ফুটেজে যা দেখা গেল: ওইদিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চকবাজার এক্সেস রোডের শেষ মাথায়, সিরাজ উদ-দৌলা রোডের পাশে অবস্থিত ‘ঢাকাইয়া খানা’ দোকানের সামনে এক পাশের সড়কে প্রথমে দুটি মোটরসাইকেল আসে। তখন সময় ৩০ মার্চ রাত ২টা ১৩ মিনিট। একটি মোটরসাইকেল থেকে নামেন চেক শার্ট, জিন্স প্যান্ট ও সাদা জুতা পরা একজন। তিনি নেমেই পাশে মোটরসাইকেলে থাকা আরেকজন থেকে পিস্তল নেন।

মোটরসাইকেলের পেছন পেছন একজন কালো টিশার্ট, ঘি কালালের প্যান্ট ও সাদা জুতা পড়া একজন ব্যাগ থেকে একটি কালো শর্টগান বের করেন। তিনি মাথায় হেলমেথ পরিহিত ছিলেন। একইসময়ে সড়কের অন্যপাশে মাথায় হেলমেথ ও জিন্সপ্যান্ট টিশার্ট পড়া আরেকজন পিস্তল নিয়ে গুলি ছুড়তে ছুড়তে সামনে যাচ্ছেন। তার পেছনে একটি মোটরসাইকেল ছিল। সেখান থেকে দুজন নেমে আসেন। একজনের মাথায় টুপি ও হলুদ রঙের টিশার্ট পড়া ছিল। মাথায় টুপি ও হলুদ রঙের টিশার্ট পড়া বেলাল ও মোটরসাইকেল চালক মো. মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই তিনটি মোটরসাইকেলের পেছনে আরও ৪টি মোটরসাইকেল ছিল। মোট ৭টি মোটরসাইকেলে ছিলেন ১৪ জন কিলিং স্কোয়াড। তারা যখন সামনে যাচ্ছিলেন, তখন ডিউটিতে থাকা পুলিশের একটি টহল গাড়ি পিছু হটে।

পুলিশ জানিয়েছে, শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের পর পাঁচজন হত্যাকারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় ব্যবহৃত অন্তত ১০-১২টি অস্ত্র উদ্ধারে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।

শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের গ্রেপ্তারের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা কি-না ? এমন প্রশ্নে এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বাকলিয়া থানার পরিদর্শক মোজ্জামেল হক আমার দেশকে জানিয়েছেন, সাজ্জাদের বিষয়টি এখনো তদন্তাদীন। এখানে আরও কয়েকটি বিষয় সামনে আসছে। আমরা এসব বিষয় তদন্ত করছি।

তিনি বলেন, আমরা তদন্তে এখনো পর্যন্ত কিলিং মিশিনে ১৩-১৪ জন অংশ নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। ঘটনার সময় ৬-৭টি মোটরসাইকেল ব্যবহারও করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগের কাছে ছিল পিস্তল ও শর্টগান। এসব অস্ত্র উদ্ধারে আমরা কাজ করছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন