চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীর ফেরদৌস শিপইয়ার্ডে নয় শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় জাহাজের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বিষাক্ত গ্যাস ও বিপজ্জনক রাসায়নিকের উপস্থিতির কারণে তদন্তে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে জাহাজের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম।
গত ১৪ আগস্ট স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপইয়ার্ডে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিল্প মন্ত্রণালয় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও মূল স্পটে ঢুকতে পারছেন না উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিমটি। জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের তীব্র ঝুঁকিতে বাইরে অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। ফলে গ্যাসের উৎস কোথায় ছিল, জাহাজ কাটার আগে যথাযথভাবে গ্যাসমুক্ত করা হয়েছিল কি-না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার কোথায় ঘাটতি ছিল- এসব রহস্য এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হচ্ছে না। জাহাজের অভ্যন্তরের বিষাক্ত গ্যাস নিরাপদে নিষ্কাশন না হওয়া পর্যন্ত সরেজমিন তদন্তও সম্ভব হচ্ছে না। দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত যেখানে, সেই জায়গাটিই এখনো তদন্তকারীদের নাগালের বাইরে।
তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন- বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তর এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের আদেশে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসীর আরাফাত খান, বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ক্যাপ্টেন মো. শোয়েব আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জহির উদ্দিন, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার আরাফাত হোসেন এবং মেরিন সার্ভেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
ফেরদৌস শিপইয়ার্ডের এ প্রাণহানি সীতাকুণ্ডের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ শিল্পের শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। জাহাজ কাটার আগে গ্যাস পরীক্ষা ও গ্যাসমুক্তকরণ, বদ্ধ স্থানে প্রবেশের নিয়ম, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত কর্মী এবং জরুরি উদ্ধারব্যবস্থার কার্যকারিতা তদন্তে স্পষ্ট হওয়ার দাবি উঠেছে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, প্রাথমিকভাবে পাঁচ সদস্যের পর্যবেক্ষক দল দিয়ে কাজ শুরু হলেও জাহাজের বদ্ধ প্রকোষ্ঠে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও বিষাক্ত গ্যাসের তীব্রতা বিবেচনায় পরে আট সদস্যের বিশেষজ্ঞ টিম করা হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাউকে জাহাজের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে মূল স্পটে প্রবেশ সম্ভব না হলেও পারিপার্শ্বিক তথ্য, নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


