গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেছেন, জুলাইযোদ্ধারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশকে আরেকবার স্বাধীন করেছে। এই কথাটি শুধু মুখে না বলে আমাদের সবাইকে কর্মে ও অন্তরে ধারণ করতে হবে। শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকারীরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই। আজকে সব শহীদের প্রতি, বিশেষ করে ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালে যারা এ দেশকে ভালোবেসে দেশের মানুষের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
মন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা এখানে যারা উপস্থিত হয়েছি, আমরা একটি শপথ গ্রহণ করি—শহীদদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দিন-রাত প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে দেশ জর্জরিত হয়ে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত হয়েছিল। এখন আপনারা যার যার অবস্থান থেকে দেশ গড়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করলে এ দেশ ঘুরে দাঁড়াবে।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের কথা দিচ্ছি, ইনশাআল্লাহ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার এ দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যাবে। আমরা যদি আমাদের কাজটা করতে পারি, ইনশাআল্লাহ এ দেশের চেহারা বদলে যাবে।
কুমিল্লার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, আমার মন্ত্রণালয় থেকে অন্যান্য শহীদ পরিবার যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে, ইনশাআল্লাহ আপনারাও তা অবশ্যই পাবেন। সরকার ঘোষিত যেকোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা যদি কোনো শহীদ পরিবার না পেয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই যোগাযোগ করবেন। আমরা সঠিক প্রাপ্য বুঝিয়ে দেব।
প্রধান আলোচকের বক্তব্যে কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফলে এ দেশের ছাত্র-জনতা দীর্ঘদিনের চেপে থাকা স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তাদের আত্মত্যাগকে আমরা ভুলে যেতে দেব না। আমরা জুলাইকে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, ধারণ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের নেতৃত্বে এ দেশ পথ হারাবে না।
তিনি আরো বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের আশ্বস্ত করতে চাই, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তোমাদের যুগের মানুষ। তিনি তোমাদের ত্যাগ, তোমাদের ব্যথা, তোমাদের চাওয়া বুঝতে পারেন। সুতরাং বিশ্বাস রাখো, ধৈর্য ধরো—তিনি তোমাদের হতাশ করবেন না।
মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা, কুমিল্লা বারের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লার আহ্বায়ক সাকিব হুসাইনসহ জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিএনপির জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

