রোম থেকে বাবা-মা-বোনের লাশ নিয়ে দেশে ফিরলেন অয়ন, কাঁদল পুরো গ্রাম

রোম থেকে বাবা-মা-বোনের লাশ নিয়ে দেশে ফিরলেন অয়ন, কাঁদল পুরো গ্রাম

ইতালির রাজধানী রোমে দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত একই পরিবারের তিন বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে লাশবাহী একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশগুলো নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পৈতৃক বাড়িতে নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহতরা হলেন—চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৪), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যাশিশু অরোরা ইসলাম আরিশা।

একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে বেঁচে যাওয়া নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে অয়ন (২১) বাবা, মা ও ছোট বোনের মরদেহ নিয়ে দেশে ফিরেছেন। পরিবারের দাবি, হামলাকারী অয়নের মাথায়ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। বর্তমানে তার মাথায় ১৬টি সেলাই রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ইতালিতে নিহতদের প্রথম জানাজা শেষে লাশ বাংলাদেশের উদ্দেশে পাঠানো হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে স্বজনরা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাশ গ্রহণ করে কোম্পানীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মরদেহগুলো চরকাঁকড়ার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

লাশ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ সেখানে ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা।

বাদ মাগরিব স্থানীয় শিশু নিকেতন স্কুল মাঠে নিহত তিনজনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত কামাল উদ্দিন বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতনিকে যারা হত্যা করেছে, সেই হত্যাকারী শাহাদাতের ফাঁসি চাই। বাংলাদেশ সরকার ও ইতালি সরকারের প্রতি আমার জোর দাবি, দ্রুত হত্যাকারীকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত শাহাদাত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্যসচিব। প্রায় চার বছর আগে তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং তার সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডে মামলা করেন। মামলায় কারাভোগের পর প্রায় এক বছর আগে তিনি ইতালিতে চলে যান।

নিহত দম্পতির একমাত্র ছেলে অয়ন বলেন, শাহাদাত হোসেন আমার বাবা, মা ও ছোট বোনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করা হয়। আমার মাথায় ১৬টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। ভাগ্যক্রমে আমি বেঁচে আছি। ইতালি সরকারের কাছে আমার আবেদন, দ্রুত শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

গত ২৬ জুন ইতালির রাজধানী রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের তিনজন নিহত এবং অয়ন গুরুতর আহত হন। ঘটনার এক মাস ১৯ দিন পর শুক্রবার নিহতদের লাশ দেশে এনে দাফন করা হলো।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন