মাদারীপুরের রাজৈরে গ্রামীণ সংযোগ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কামরুল অ্যান্ড ব্রাদার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করা, ধীরগতি, চুক্তির শর্ত ও কারিগরি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, বড় আকারের খোয়া ব্যবহার এবং সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। কাজের অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বদলি হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এবং কিছু অংশের কাজ অসমাপ্ত। এতে স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ধীরগতির কারণে বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলার গোলবাথান ইউজেডআর-কবিরাজপুর ইউপি সড়ক হয়ে হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউপি সড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার অংশের উন্নয়নকাজ চলছে। এ কাজের চুক্তিমূল্য প্রায় ১৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। চুক্তি শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট এবং মূল সমাপ্তির সময় ছিল ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে জুন ২০২৬ পর্যন্ত কাজের ভৌত অগ্রগতি ছিল মাত্র ৫০ শতাংশ।
রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের এক চিঠিতে বলা হয়, সড়কের বিভিন্ন অংশে নির্ধারিত কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাস্তার স্তর নির্মাণে খোয়ার মান ও আকার নিয়ে আপত্তি উঠে।
গত ১৫ জুলাই মাদারীপুর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে মজুত করা খোয়া নির্ধারিত মানের উপযুক্ত নয় বলে মত দেন এবং তা সরিয়ে নতুন উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশ দেন। পরে ২৯ জুলাই দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন পরিদর্শনে গিয়ে একই ধরনের বড় আকারের খোয়া দিয়ে কাজ করার চেষ্টা দেখতে পান বলে সংশ্লিষ্ট চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ওই কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে ২৯ জুলাই নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলি খান প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গেলে কাজের মান ও শিডিউল নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ওহাব মাতুব্বরের সঙ্গে উপসহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির চিঠিতে এটিকে অসৌজন্যমূলক ও হুমকিমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৫ আগস্ট দেওয়া লিখিত জবাবে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, বিষয়টি পরে নির্বাহী প্রকৌশলী, ঠিকাদার প্রতিনিধি ও উপসহকারী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিসে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। সন্তোষজনক জবাব না দিলে চুক্তি বাতিল, জামানত বাজেয়াপ্তসহ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
রাজৈর উপজেলা প্রকৌশলী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমি ৬ সেপ্টেম্বর যোগদান করেছি। বিষয়টি পরে জানতে পেরেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিডিউল অনুযায়ী কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার উজ্জ্বল বলেন, ‘আমাদের কাজ চলমান রয়েছে।’ অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী হায়দার আলি খান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

