কুড়িগ্রামে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাননি কৃষক

কুড়িগ্রামে সারা দিন লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাননি কৃষক

চলতি আমন মৌসুমে কুড়িগ্রামে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। ভোর ৩টায় ডিলার পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না সার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করেও সার না পেয়ে ক্ষোভ ও হতাশায় বাড়ি ফিরছেন কৃষক। এতে করে আমনের ফলনে বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।

গত মঙ্গলবার জেলার রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নে সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৩টা থেকেই হাজার হাজার কৃষক জড়ো হতে থাকেন মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টে। সকাল ৬টা পর্যন্ত পুরুষ ও মহিলার দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এরপর কয়েক হাজার কৃষকের সমাগমে দেখা দেয় হট্টগোল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে সিরিয়াল ভঙ্গ করে সার উত্তোলন করতে দেখা গেছে কৃষকদের। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই সার না পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

বিজ্ঞাপন

চরসাজাই গ্রামের তাইছার আহমেদ বলেন, ‘সার দেওয়ার কথা শুনে ভোর ৫টায় আসি। অনেকে তো আরো আগেই এসেছে। এসে দেখি হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। প্রচণ্ড গরমে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে সার না পেয়ে চলে এলাম। কৃষি বিভাগ বলছে সারের সংকট নেই, তাহলে আমি সার পেলাম না কেন?’

সুরমান ও সাদেক আলী নামের দুই কৃষক বলেন, ‘আমরা ভোর ৩টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও সার পাইনি। সার বিতরণ করেছে ৫৬০ বস্তা আর কৃষকের চাহিদা প্রায় পাঁচ হাজার বস্তা। কৃষক সার না পেলে এবারের ধানের আবাদে চরম ব্যাঘাত ঘটবে।’

মেসার্স শাহজাহান সিরাজ ডিলার পয়েন্টের পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৪৬ টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ পেয়েছিলাম। কয়েক দিন আগে ১৮ টন বিতরণ করেছি আর আজ ২৮ টন বিতরণ করলাম। এ ইউনিয়নে মাত্র দুই ডিলার হওয়ায় চাপ অনেক বেশি।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ী ও কুড়িগ্রামের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘রোপা আমনের জন্য সারের কোনো ঘাটতি নেই। সামনে কৃষকরা ভুট্টা চাষ করবে, তাই সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, আর এই কাজটা চরাঞ্চলের মানুষ বেশি করছে। অথচ ভুট্টা ও আলুর জন্য আরো বেশি সার বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন