ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করার অভিযোগে শিক্ষকের মুখে চুনকালি দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মালিগ্রাম বাজারের নূরুল কোরআন ক্যাডেট মাদরাসায়।
বলাৎকারের অভিযোগে সামাজিক বিচারের নামে ওই শিক্ষককে মুখে চুনকালি দিয়ে অপমান অপদস্থ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকের মুখে চুনকালি লেপে দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ মাদরাসায় গিয়ে সরজমিন পরিদর্শন করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০ দিন আগে মালিগ্রাম নূরুল কোরআন ক্যাডেট মাদরাসার নাজেরা বিভাগের যোগদান করেন শিক্ষক আনোয়ার হোসেন। একই মাদরাসার আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থী প্রতিদিনের মত ক্লাস করতে ছিল। অভিযুক্ত মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আনোয়ার হোসেন শ্রেণি কক্ষের দরজা আটকিয়ে তাকে বলাৎকার করে। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য শিক্ষক ভয় দেখিয়ে শিশুকে তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু শিশু বাসায় গিয়ে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির মা মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মাসুদুর রহমানকে ও এলাকার জনগণকে ঘটনাটি জানায়। মাদরাসা পরিচালক ওই শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের জানালে শিক্ষকের বড় ভাই মাদরাসায় উপস্থিত হন। পরে শিশুটির মা, মাদরাসা পরিচালক ও স্থানীয় জনগণ শিক্ষকের বড় ভাইকে সামনে রেখে সামাজিক বিচারের জন্য মাদরাসা বসেন। এসময় শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বলাৎকার করার ঘটনা অস্বীকার করলেও তার অসংলগ্ন কথাবার্তা ও আচরণে উপস্থিত সকলের সন্দেহ হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারপিট করে এবং মুখে চুনকালি লেপে দেওয়া হয়।
চরম হৈচৈ ও উত্তর খবর জানতে পেরে সেখানে ছুটে যানস্থানীয় যুবদল নেতা সালাহ উদ্দীন। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে সবার সামনে ঘটনাটি জানতে চাইলে শিক্ষক নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন এবং লোকলজ্জার ভয়ে মাদরাসা থেকে বড় ভাইর সাথে নিজের গ্রামের বাড়ি বোয়ালমারী চলে যায়।
গোপন ক্যামেরায় কে বা কারা ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ায় ভাইরাল হয়। নড়েচড়ে বসে পুলিশ ও মিডিয়া কর্মীরা।
এবিষয়ে মাদরাসা পরিচালক মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই ছাত্রের মা অভিযোগ করার পর ঘটনাটি শুনতে বসেছিলাম। কিন্তু শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং শুনানির সময় অসংলগ্ন কথাবার্তায় দোষী বলে ধরে নিয়ে স্থানীয়রা তার মুখে চুনকালি লেপে দেয়।
ঘটনাস্থল থেকে ভাঙ্গা থানার এসআই এনামুল সাংবাদিকদের বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটি জানার জন্য মাদরাসা গিয়ে ছাত্র ও তার মায়ের সাথে কথা বলেছি। তারা থানায় কোনো অভিযোগ দিতে তাৎক্ষণিকভাবে রাজী হয়নি।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

