গাজীপুরের শ্রীপুরে আলোচিত এক মাদ্রাসাছাত্রী অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ এবং এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার প্রধান আসামি এখনো পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ঘটনার শুরু থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার বিকেলে শ্রীপুর পৌর শহরের একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম শ্রীপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পিতা, স্থানীয় ইমাম ও খতিব মাওলানা হাদিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ একাধিকবার ফোন করেও তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাননি। পাশাপাশি শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি সরাসরি যোগাযোগের পরও দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়নি বলেও অভিযোগ তোলেন।
তিনি আরও বলেন, মামলা গ্রহণের ক্ষেত্রেও টালবাহানা করা হয়েছে এবং শুরু থেকেই ঘটনাটিকে ‘প্রেমঘটিত’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এতে সময়ক্ষেপণের সুযোগে মূল আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এছাড়া উপ-পরিদর্শক (এসআই) লাল চাঁনের বিরুদ্ধেও দায়িত্বে অবহেলা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলা হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল স্থানীয় সুরুজ মিয়ার ছেলে মো. আবিদ (২১)সহ কয়েকজন জোরপূর্বক ওই শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে চাপের মুখে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও পরে আবার সশস্ত্র হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পুনরায় অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তীতে ১৬ এপ্রিল ভোররাতে শ্রীপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত আবিদসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, শিক্ষার্থীকে শ্রীপুর সরকারি কলেজের সামনে থেকে উদ্ধার করা হলেও পুলিশ জানায়, গত ১৮ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার নয়নপুর এমসি বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই কার্যকর পুলিশি তৎপরতার ঘাটতি ছিল, যা একটি গুরুতর অপরাধের তদন্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা দ্রুত প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট ওসির প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত এসব দাবি পূরণ না হলে মানববন্ধনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

